
ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শিক্ষার্থী সাবে তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে মিল্লাতিয়ান’স সোসাইটি অব জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
আজ বুধবার (৬ আগস্ট) দুপুর দেড়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষ্কর্য চত্বরে আয়োজিত এই মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিভাগে অধ্যয়নরত সাবেক তামিরুল মিল্লাত মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধনের তারা সাজিদ হত্যার প্রতিবাদ করেন এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত বিচারের দাবি জানান।
এসময় ইতিহাস বিভাগের ২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী সামিউল ইসলাম সামি বলেন, “অবিলম্বে ইবি শিক্ষার্থী সাজিদ হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে এবং ক্যাম্পাসের প্রত্যেকটি প্রাঙ্গণ সিসিটিভির আওতায় আনতে হবে,পাশাপাশি নিরাপত্তা চৌকি তৈরী করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।”
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী মো. বখতিয়ার ইসলাম বলেন, “সাজিদ আব্দুল্লাহকে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। একটি চক্র এই হত্যাকে পানিতে ডুবে যাওয়ার ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দিতে চেয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যর্থতার জ্বলন্ত প্রমাণ। আমরা দ্রুত, স্বাধীন ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে খুনিদের বিচার দাবি করছি। দাবি উপেক্ষিত হলে কঠোর আন্দোলনের দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে।”
মিল্লাতিয়ানস সোসাইটি অব জগন্নাথ ইউনিভার্সিটি এর সভাপতি তারেকুল ইসলাম বল্বন, “আজকে আমরা কোন ব্যক্তির পক্ষে দাঁড়াই নাই, মুলত দাড়িয়েছি একজন শহীদ ভাইয়ের হত্যাকান্ডের বিচারের দাবিতে, একজন সন্তানহারা মায়ের সন্তান হত্যার বিচারের দাবিতে। আমরা ইবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট আহ্বান জানাবো অতিদ্রুত সাজিদ আব্দুল্লাহ ভাইকে হত্যার সুষ্ঠ তদন্ত করে সকল বিচারিক কার্যক্রম শেষ করে অপরাধীদের শাস্তির ব্যবস্থা করে।”
সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী (সাবেক মিল্লাতিয়ান) সাজিদ আব্দুল্লাহকে গত ১৭ই জুলাই শ্বাসরোধ করে হত্যা আমাদেরকে চরমভাবে মর্মাহত করেছে। এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের অতিদ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।ইবি প্রশাসন যদি কোনো তালবাহানার আশ্রয় নেয় সেটা হবে তাদের জন্য আত্মঘাতী। আমরা বিচার চাই, তালবাহানা চাই না।”
উল্লেখ, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল কোরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন সাজিদ আবদুল্লাহ। গত ১৭ জুলাই (বৃহস্পতিবার) বিকেলে শাহ আজিজুর রহমান হলের (সাবেক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হল) পুকুর থেকে সাজিদের লাশ ভাসতে দেখা গেলে পরে উদ্ধার করেন একদল শিক্ষার্থী। তার পরিবার ও সহপাঠীরা বলছেন, সাজিদ হত্যার শিকার হয়েছেন।