
বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খান ও গৌরী খানের মুম্বাইয়ের বাসভবন ‘মান্নাত’। তাদের এই দম্পতির ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি এই বাড়ি নিয়েও মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। এবার এই বাড়িটির সংস্কার ও সম্প্রসারণ নিয়ে চলা আইনি বিতর্কে স্বস্তির খবর মিলেছে।
এনডিটিভি থেকে জানা যায়, মুম্বাইয়ের এক বাসিন্দা আদালতে দাবি করেছিলেন, মান্নাতের সম্প্রসারণ প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশগত অনুমোদন ও আইনগত প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। তার অভিযোগ ছিল, ৫ কোটির বেশি ব্যয়ের প্রকল্পের ক্ষেত্রে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন বাধ্যতামূলক হলেও সেটি নেয়া হয়নি। তবে শুনানির সময় আবেদনকারীর উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলে সুপ্রিম কোর্ট।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, কোনও ব্যক্তি যদি আইন মেনে নিজের ব্যক্তিগত বাসভবনে সংস্কার বা পরিবর্তন করতে চান, তাহলে তাতে বাধা দেয়ার কারণ নেই। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, এই মামলায় আদালতের সিদ্ধান্ত কোনও ব্যক্তির জনপ্রিয়তা বা তারকা পরিচয়ের ভিত্তিতে নেয়া হয়নি। আবেদনকারীর পক্ষ থেকে মামলাটি পুনরায় ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর অনুরোধ জানানো হলেও সুপ্রিম কোর্ট সেই আবেদনও গ্রহণ করেনি। এর আগে, মান্নাতের সংস্কার ও সম্প্রসারণের জন্য দেওয়া পরিবেশগত এবং উপকূলীয় ছাড়পত্রকে বৈধ ঘোষণা করে আবেদন খারিজ করেছিল এনজিটিও। ট্রাইব্যুনাল জানিয়েছিল, প্রকল্পটি বিদ্যমান পরিবেশগত বিধিমালা অনুসরণ করেই অনুমোদন পেয়েছে
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে সমাজকর্মী সন্তোষ দাউন্ডকর এই আবেদনটি করেছিলেন। তার অভিযোগ ছিল, মহারাষ্ট্র কোস্টাল জোন ম্যানেজমেন্ট অথরিটি যে উপকূলীয় ছাড়পত্র দিয়েছিল, তা পরিবেশগত নিয়ম যথাযথভাবে মেনে দেয়া হয়নি। অন্যদিকে, প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট পক্ষের দাবি ছিল, মন্নতের সংস্কার ও সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় সব অনুমতি আইন মেনেই সংগ্রহ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গৌরী খান মান্নাতের ছয়তলা ভবনের ওপর আরও দুটি তলা যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেই পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছিল পরিবেশ ও উপকূলীয় ছাড়পত্র নিয়ে বিতর্ক। সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ রায়ের মাধ্যমে সেই আইনি জটিলতা এবার শেষ হলো।