1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
মধ্যনগরে মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রের ডাক্তার - নার্স না থাকায়, জরুরী সেবাবঞ্চিত হাওরাঞ্চলের অন্তঃসত্ত্বা নারী ও জনগণ - আজকের কাগজ
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি কি ক্ষমতা হারাচ্ছে? উত্তেজনায় ইসরায়েলি নির্বাচন ঢাকায় নতুন দুই মেট্রোরেল প্রকল্পে ঠিকাদার নিয়োগে ৪ চুক্তি সই হুথিদের হামলা বন্ধে ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব দিল সৌদি আরব ঢামেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট: চরম ভোগান্তিতে রোগী ও স্বজনরা ভারতের দিকে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব: বাংলাদেশে কেমন প্রভাব পড়বে? শ্যালিকাকে বিয়ে, মুখে চুনকালি মাখিয়ে যুবক ও তার দুই স্ত্রীকে এলাকাছাড়া করল গ্রামবাসী খুলনায় ১৭ ঘণ্টায় তিন স্থানে গুলি: আতঙ্কে স্থানীয়রা পিরোজপুরের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করল জামায়াতে ইসলামী বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ অনুসন্ধানে পিজিসিবির ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি নওগাঁয় যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে কর্মী সমর্থকদের ঢল

মধ্যনগরে মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রের ডাক্তার – নার্স না থাকায়, জরুরী সেবাবঞ্চিত হাওরাঞ্চলের অন্তঃসত্ত্বা নারী ও জনগণ

ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬ ৭:২১ পিএম
শেয়ার করুন

সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী হাওরবেষ্টিত মধ্যনগর উপজেলার ফুলেন্নেছা মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে এক মাস ধরে প্রসব ও মাতৃত্বকালীন চিকিৎসাসেবা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। চিকিৎসক না থাকা এবং একমাত্র মিডওয়াইফ (প্রশিক্ষিত ধাত্রী) চলে যাওয়ায় এ সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে দুর্গম এ অঞ্চলের ৫০ হাজার জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি নারী প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং ফলে প্রত্যন্ত এলাকার অন্তঃসত্ত্বা নারীরা প্রসব নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের দাতিয়াপাড়া গ্রামে ১০ শয্যাবিশিষ্ট এই ফুলেন্নেছা মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রটি অবস্থিত। এতদিন পর্যাপ্ত লোকবল না থাকলেও একমাত্র পদায়নকৃত মিডওয়াইফ আসমা আক্তার ও একজন ফার্মাসিস্টের মাধ্যমে স্বল্প পরিসরে কেন্দ্রটির কার্যক্রম চালু ছিল। সেখানে বিনামূল্যে ২৪ ঘণ্টা স্বাভাবিক প্রসব (নরমাল ডেলিভারি) এবং ২৮ ধরনের প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হতো। কিন্তু গত ৩১ জুলাই মিডওয়াইফের প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তিনি বিদায় নেন। এরপর থেকেই মূলত কেন্দ্রটির প্রসব ও মাতৃত্বকালীন সেবাদান সম্পূর্ণ থমকে যায়।

স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির নিয়ম অনুযায়ী দু’জন চিকিৎসা কর্মকর্তা, চারজন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা, একজন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, একজন ফার্মাসিস্ট থাকার কথা। কিন্তু ফুলেন্নেছা মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে শুধু একজন ফার্মাসিস্ট ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের এমসিএইচ ইউনিট থেকে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ পাওয়া একজন মিডওয়াইফ কয়েক বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

তবে শুরু থেকেই এসব পদে কোনো স্থায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে হাওরাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া নারীদের নিরাপদ প্রসবের একমাত্র ভরসাস্থলটি এখন কার্যত সেবাশূন্য। বাধ্য হয়ে প্রসূতিদের চরম ঝুঁকি নিয়ে প্রায় ২০-২৫ কিলোমিটার দূরের নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কিংবা সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। বর্ষাকালে হাওরের উত্তাল তরঙ্গ ও যোগাযোগব্যবস্থা না থাকায় অনেক সময় পথেই প্রসূতিদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে ওঠে।

বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের ভুক্তভোগী জলি আক্তার জানান, দুর্গম যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে সন্তানসম্ভবা নারীদের বেশি দূরের পথ বা অন্য উপজেলার হাসপাতালে যাওয়া অধিক ঝুঁকিপুর্ণ। ফুলেন্নেছা মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে অন্তঃসত্ত্বাকালে স্বাস্থ্য ও প্রসবসেবা প্রদান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলাকার নারীরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন, হাওরাঞ্চলের সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে ফুলেন্নেছা মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে অতি দ্রুত একজন দক্ষ প্রসব সেবাদানকারী বা মিডওয়াইফ পদায়ন করা জরুরি।

​এ বিষয়ে মধ্যনগর উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রিফাত তারেক সিদ্দিকী জানান, মিডওয়াইফের প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় সাময়িক সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে দ্রুততম সময়ে সরকার কর্তৃক নতুন মিডওয়াইফ নিয়োগের মাধ্যমে খুব শীঘ্রই পুনরায় সেবা কার্যক্রম চালু করা হবে।

এই বিভাগের আরো খবর