1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
মুয়াজ্জিনের বিদায়, ঘোড়ার গাড়িতে ব্যতিক্রমী আয়োজন - আজকের কাগজ
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি কি ক্ষমতা হারাচ্ছে? উত্তেজনায় ইসরায়েলি নির্বাচন ঢাকায় নতুন দুই মেট্রোরেল প্রকল্পে ঠিকাদার নিয়োগে ৪ চুক্তি সই হুথিদের হামলা বন্ধে ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব দিল সৌদি আরব ঢামেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট: চরম ভোগান্তিতে রোগী ও স্বজনরা ভারতের দিকে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব: বাংলাদেশে কেমন প্রভাব পড়বে? শ্যালিকাকে বিয়ে, মুখে চুনকালি মাখিয়ে যুবক ও তার দুই স্ত্রীকে এলাকাছাড়া করল গ্রামবাসী খুলনায় ১৭ ঘণ্টায় তিন স্থানে গুলি: আতঙ্কে স্থানীয়রা পিরোজপুরের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করল জামায়াতে ইসলামী বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ অনুসন্ধানে পিজিসিবির ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি নওগাঁয় যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে কর্মী সমর্থকদের ঢল

মুয়াজ্জিনের বিদায়, ঘোড়ার গাড়িতে ব্যতিক্রমী আয়োজন

মোবাশ্বের নেছারী, কুড়িগ্রাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬ ৬:১২ পিএম
শেয়ার করুন

প্রতিদিন ভোরে তাঁর কণ্ঠে ঘুম ভাঙত মানুষের। দুপুর, বিকেল কিংবা সন্ধ্যা—দিনের পাঁচটি সময়ে আজানের সুরে মানুষকে ডাকতেন নামাজের পথে। এভাবেই কেটে গেছে জীবনের ৪০টি বছর। বয়সের ভারে এবার সেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন মো. শুক্কুর আলী (৭১)।
তবে চার দশকের এই পথচলার শেষটা ছিল অন্যরকম। বিদায় সংবর্ধনা শেষে ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে প্রিয় মুয়াজ্জিনকে বাড়িতে পৌঁছে দিলেন মুসল্লি ও এলাকাবাসী। ব্যতিক্রমী এই বিদায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন উপস্থিত সবাই।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) জুমার নামাজের পর কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার গুনাইগাছ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে শুক্কুর আলীর বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গুনাইগাছ ইউনিয়নের রামদাস ধনিরাম খেওয়ার পাড় এলাকার বাসিন্দা শুক্কুর আলী প্রায় চার দশক ধরে ওই মসজিদের মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করেছেন। ফজর থেকে এশা পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আজান দেওয়ার পাশাপাশি ইমামের অনুপস্থিতিতে নামাজও পড়িয়েছেন তিনি।
দিনের পর দিন, বছরের পর বছর একই নিষ্ঠায় মসজিদের সঙ্গে থেকেছেন এই সাদাসিধে মানুষটি। চারপাশের অনেক কিছু বদলেছে, প্রজন্ম বদলেছে; কিন্তু তাঁর কণ্ঠের আজানের সুর বদলায়নি। শেষ পর্যন্ত বার্ধক্যের কাছে এসে নিজেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
তাঁর দীর্ঘদিনের সেবাকে সম্মান জানাতে মুসল্লি ও এলাকাবাসী আয়োজন করেন ব্যতিক্রমী বিদায় অনুষ্ঠানের। আনুষ্ঠানিকতা শেষে ফুলে সাজানো ঘোড়ার গাড়িতে বসানো হয় শুক্কুর আলীকে। এরপর সসম্মানে তাঁকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসীর অনেকে।
মসজিদের মুসল্লি রিপন মিয়া বলেন, ‘শুক্কুর আলী খুবই সাদাসিধে মানুষ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফজর থেকে এশা পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আজান দিয়েছেন। ইমাম না থাকলে নামাজও পড়িয়েছেন। তাঁর বিদায় আমাদের জন্য আবেগের।’
স্থানীয়রা জানান, সাধারণত কাউকে বিদায় জানাতে গাড়ি কিংবা অন্য কোনো প্রচলিত যান ব্যবহার করা হয়। কিন্তু চার দশক ধরে মসজিদে সেবা দেওয়া একজন মুয়াজ্জিনকে ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে বিদায় জানানোর ঘটনা এলাকায় বিরল। এই আয়োজন ছিল তাঁর প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রতীক।
মসজিদ কমিটির সভাপতি শামীম আখতার আমীন বলেন, ‘বার্ধক্যের কারণে শুক্কুর আলী স্বেচ্ছায় অবসর নিতে চেয়েছেন। তিনি খুব ভালো মানুষ ছিলেন এবং দীর্ঘদিন নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাই তাঁর প্রতি সম্মান জানিয়ে ঘোড়ার গাড়িতে করে বিদায় দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
তিনি জানান, বিদায় অনুষ্ঠানে শুক্কুর আলীকে নগদ অর্থসহ বিভিন্ন উপহারসামগ্রী দেওয়া হয়েছে।
৪০ বছর ধরে যে কণ্ঠে উঠেছে আজানের ধ্বনি, সেই কণ্ঠ এবার থেমে গেল। তবে ঘোড়ার গাড়িতে তাঁর সেই বিদায় যেন বলে গেল—দায়িত্ব শেষ হতে পারে, কিন্তু মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া ভালোবাসার কোনো অবসর নেই।

এই বিভাগের আরো খবর