1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
  4. : temp-login-BxH6QyEPU5XH7Ed :
ইসরাইল নির্বাচন: সরকার গঠনের জটিল সমীকরণে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ - আজকের কাগজ
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
বিএনপিকে ডা. শফিকুর রহমান |: জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবেন না ১৪ শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও কুমিল্লার মাদ্রাসায় সবাই অকৃতকার্য দিনাজপুর বোর্ডে পাসহীন ৪৯ কলেজ, কমেছে পাসের হার এইচএসসিতে সামসুল হক খান কলেজের ঈর্ষণীয় সাফল্য, পাস ৯৯.০৭ শতাংশ এইচএসসিতে এবারও দেশসেরা সাফল্য নরসিংদীর আব্দুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজের উত্তর প্রদেশে নির্বাচনী রণকৌশল নিয়ে চিন্তিত অমিত শাহ এইচএসসি পরীক্ষায় বগুড়ার ৫ প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেননি যশোর বোর্ডে এইচএসসি ফলাফল: পাশের হার ও জিপিএ-৫ এ পতন সরকারি ফ্ল্যাটে সাবলেট উচ্ছেদ: বাড়ি ছাড়তে হচ্ছে ইডেন-বদরুন্নেসার শিক্ষার্থীদের রংপুরের পীরগঞ্জে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ৪ বছরের শিশুর মৃত্যু

ইসরাইল নির্বাচন: সরকার গঠনের জটিল সমীকরণে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ৫:১১ পিএম
শেয়ার করুন

ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই দেশটিতে সরকার গঠন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ১২০ আসনবিশিষ্ট পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য অন্তত ৬১টি আসন প্রয়োজন, কিন্তু কোনো দলই এককভাবে সেই লক্ষ্য স্পর্শ করতে পারেনি। এর ফলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট—উভয়ের জন্যই সরকার গঠনের পথ বেশ দুর্গম হয়ে পড়েছে। বর্তমানে দলীয় শীর্ষ নেতারা সরকার গঠনের জন্য জোর আলোচনা ও সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে পার্লামেন্টের আসন বণ্টনের হিসাব স্পষ্ট হলেও কে দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নেতানিয়াহু ইতোমধ্যেই এই ধরনের জোটকে ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরে বিরোধীদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন।

জটিল এই রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ১৯টি আসন নিয়ে আরব দলগুলো কিংমেকার বা নতুন সরকার গঠনের নির্ণায়ক শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। গাদি আইজেনকোট যদি আরব দলগুলোকে সাথে নিয়ে জোট গঠন করেন, তবে তিনি ৬৭ আসনের শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারবেন। তবে এটি তার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আরব নাগরিকদের প্রতি ইসরাইলি ইহুদি ভোটারদের একটি বড় অংশেরই আস্থাহীনতা রয়েছে। উল্লেখ্য, ইসরাইলের মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশই আরব নাগরিক। এর আগে ২০২১ সালে একটি আরব দল জোট সরকারে যোগ দিয়েছিল, তবে সেই জোট মাত্র ১৮ মাস টিকে ছিল। তারা সরাসরি সরকারে যোগ না দিলেও বাইরে থেকে সমর্থন দিয়ে একটি সংখ্যালঘু সরকার টিকিয়ে রাখতে পারে। তাদের সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার কারণে ইসরাইলের ইহুদি জনগোষ্ঠীর বড় অংশ তাদের প্রতি আস্থা রাখতে পারে না। তবে এই পথটিতে সবচেয়ে বড় বাধা হলো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ। এই নির্বাচনে ভোট দিতে বিদেশ থেকে যে হাজার হাজার ইসরাইলি নাগরিক এসেছিলেন, তাঁরা দ্বিতীয় দফায় পুনরায় আসবেন কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সামনে পথটি ভিন্ন। তিনি আইজেনকোট ও তার ডানপন্থী সহযোগীদের নিজেদের পক্ষে নিয়ে ৬৭ আসনের জোট গড়ার চেষ্টা চালাতে পারেন। এমনটি ঘটলে অতি-অর্থোডক্স ও উগ্র-জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলো বিরোধী শিবিরে চলে যাবে। তবে এই কৌশল বাস্তবায়নে নেতানিয়াহুকে তার দীর্ঘদিনের মিত্রদের ত্যাগ করতে হবে। এছাড়া, ২০২৩ সালের অক্টোবরের নিরাপত্তা ব্যর্থতা, গণতান্ত্রিক কাঠামোর ক্ষয় এবং দুর্নীতি মামলার কারণে আইজেনকোট ও তার সহযোগীরা নেতানিয়াহুর সঙ্গে সরকারে না বসার শপথ নিয়েছেন। বিরোধী শিবিরের প্রধান দাবি হলো ওই নিরাপত্তা ব্যর্থতার রাষ্ট্রীয় তদন্ত, যা নেতানিয়াহুর সরকার কখনোই অনুমোদন করবে না। কোনো শিবিরের দখলেই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। নেতানিয়াহু বর্তমানে বিরোধী শিবিরের দুর্বল জায়গাগুলো চিহ্নিত করে তাদের ভেঙে দেওয়ার কৌশল নিচ্ছেন। অন্যদিকে এই সময়টুকুকে কাজে লাগিয়ে নেতানিয়াহু তার জোটকে আরও শক্ত করার সুযোগ পাবেন।

নেতানিয়াহু বিরোধী জোটে ফাটল ধরাতে নাফতালি বেনেট বা অবিগদোর লিবারম্যানের মতো নেতাদের নিজের দিকে টানার পরিকল্পনা করছেন। যদিও অধিকৃত অঞ্চলে বসতি স্থাপন নিয়ে মতের মিল থাকলেও, অতি-অর্থোডক্সদের সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে তাদের সঙ্গে নেতানিয়াহুর চরম ব্যক্তিগত বিরোধ রয়েছে। অপরদিকে, নেতানিয়াহুর নিজস্ব দলের সদস্যরা তার প্রতি অত্যন্ত অনুগত হওয়ায়, আইজেনকোটের পক্ষে সেখান থেকে কাউকে ভাঙিয়ে আনা প্রায় অসম্ভব।

সামগ্রিক এই পরিস্থিতিতে যেকোনো জোট গঠনের জন্য দলগুলোকে এমন কিছু কঠিন আপস করতে হবে, যা তাদের নিজ নিজ সমর্থকদের ক্ষুব্ধ করতে পারে। যদি শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব না হয়, তবে আগামী বছরের শুরুতেই ইসরাইলকে পুনরায় নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হবে। ২০১৯ সালের পর থেকে এ ধরণের অচলাবস্থার কারণে দেশটিতে সাড়ে তিন বছরে পাঁচবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নতুন নির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হলে সেই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারই ক্ষমতায় বহাল থাকবে, যা তার রাজনৈতিক অবস্থানকে সাময়িকভাবে শক্তিশালী করতে পারে। এই অন্তর্বর্তী সময়ে নেতানিয়াহুর সরকারই দায়িত্ব পালন করবে।

এই বিভাগের আরো খবর