
আমাদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিকে জনগণের কাছে হেয় করার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া গুজব একটি নতুন হাতিয়ার হিসেবে পরিণত হয়েছে গুজবকারীদের কাছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচারের মাধ্যমে যা কিনা অল্প সময় মধ্যেই টার্গেট কৃত ব্যক্তিকে সামাজিক ভাবে হেয় করা যায়। সেই সুজোগ কাজে লাগিয়ে সমাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিকে টার্গেট করে তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ভাবে গুজব ছড়ানো এখন নতুন হাতিয়ার হিসেবে পরিনতো হয়েছে স্বার্থলোভী মহলের কাছে। অনৈতিক পন্থায় স্বার্থন্বেষী মহলের স্বার্থ হাসিল না হলেই তারা লেগে পড়ে গুজব কাণ্ডে টার্গেট কৃত সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সাবেক ফুটবল অধিনায়ক আমিনুল হককে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিত অপপ্রচার চালাচ্ছে। সম্প্রতি বিভিন্ন ফেক আইডি ও পেজ থেকে তাঁর নামে ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।তবে এই সকল অপপ্রচারকে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী নিজেই।
আজকের কাগজের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো সমালোচনা নয়, বরং একটি সংগঠিত অপপ্রচার ! কী ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে? তা খুঁজতে গিয়ে ৩ ধরনের কনটেন্ট শনাক্ত করা হয়েছে। প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে ব্যক্তিগত ব্যর্থতা হিসেবে চালানো সবচেয়ে বড় উদাহরণ জাতীয় যুব মেলা। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় পুরাতন বাণিজ্য মেলা মাঠ ৭ নভেম্বরের জাতীয় অনুষ্ঠানের জন্য খালি রাখতে বলায় সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জাতীয় পর্যায়ের মেলা সাময়িক স্থগিত করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মেলা চলবে। কিন্তু ফেসবুকে একটি গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে দ্বিতীয় অংশটি বাদ দিয়ে “মেলা বাতিল, প্রতিমন্ত্রী ব্যর্থ” বলে প্রচার করছে। অর্ধসত্য দিয়ে পূর্ণ মিথ্যা:
ঘটনা ২) যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি করেছে, দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয় এবং প্রশ্ন ফাঁসের সাথে জড়িত অনেকেই গ্রেফতার হয়েছে পুলিশের হাতে। কিন্তু গুজবকারীরা প্রচার করছে এ ঘটনায় তিনি নিজেই জড়িত। যার কোনো প্রমাণ নেই!ফেক আইডি ও কপি-পেস্ট বাহিনী: একই লেখা, একই বানান ভুলসহ ২০-২৫ টি পেজ থেকে একই সময়ে পোস্ট হচ্ছে। কমেন্টেও একই আইডি থেকে বারবার নেতিবাচক মন্তব্য যা স্বাভাবিক জনমত নয়।
ঘটনা ৩). কমেন্টে বট বাহিনী: প্রতিটি অপপ্রচারমূলক পোস্টের কমেন্টে একই ধরনের ২০-৩০টি আইডি থেকে নেগেটিভ কমেন্ট করা হয় যাতে সাধারণ মানুষ মনে করে এটাই জনমত। এই আইডিগুলোর বেশিরভাগই ২০২৪-২৫ সালে খোলা এবং এদের প্রোফাইলে নিজস্ব কোনো ছবি নেই। মেটা’র ক্রাউডট্যাঙ্গেল ডেটা বিশ্লেষণ করে দেখেছে, এই পোস্টগুলোর ৮০% ই পোস্ট হয় রাত ১১টা থেকে ১টার মধ্যে, যখন ফ্যাক্টচেক কম হয়।
কেন এই অপপ্রচার? নেপথ্যে কী?
মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র ও ক্রীড়া বিশ্লেষকদের সঙ্গে কথা বলে যে কারণ গুলো জানা গেছে, “সংস্কারে আঘাত ! যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর আমিনুল হক তিনটি বড় সংস্কারে হাত দিয়েছেন যা পুরনো সুবিধাভোগী স্বার্থন্বেষী মহলের স্বার্থ হাসিলে অস্বস্তির কারণ, নিয়োগ ও টেন্ডারে স্বচ্ছতা থাকার ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অবৈধ লেনদেন বন্ধ। টেন্ডারের কাজে নিকুমানি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে একটি মহল সরকার লাভবান হচ্ছে। এ বিষয়ে কথা হয় সাইবার ক্রাইম বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে। তারা জানান, যখন কোনো ব্যক্তি তৃণমূলে সংস্কার আনেন, তখন সুবিধাভোগী গোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমিনুল হক প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর নিয়োগে স্বচ্ছতা, প্রতিটি উপজেলায় স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে ১৬ লাখ নিবন্ধন এই তিনটি উদ্যোগের ফলে ঢাকা কেন্দ্রিক পুরনো সিন্ডিকেট ভেঙে গেছে। বিশ্বব্যাংকের EARN প্রকল্প: ২ লাখ ৪৫ হাজার যুবকের দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্পটি নিয়ে কাজ শুরু করায় অনেক এনজিও-ভিত্তিক ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সেই ক্ষোভ থেকেই এই ডিজিটাল অ্যাটাক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এসব কারণে একটি গোষ্ঠী তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে মাঠে নেমেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, একজন মাঠের মানুষ থেকে প্রতিমন্ত্রী হওয়া আমিনুল হক তৃণমূলের সমস্যা বোঝেন বলেই জনপ্রিয়তা বাড়ছে, আর এটাই অনেকের সহ্য হচ্ছে না।
সাধারণ মানুষকে যাচাই না করে কোনো তথ্য শেয়ার না করার এবং গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এক অনুষ্ঠানে নিজেও বলেন, “ফেসবুকে অপপ্রচার না করে জনগণের পাশে দাঁড়ান। জনগণ এখন অনেক সচেতন। “মিথ্যা অপপ্রচার তারা বিশ্বাস করে না।”তিনি আরও বলেন, যখন সরকার সব মন্ত্রণালয় ও সিটি করপোরেশন নিয়ে মানুষের মৌলিক সমস্যা সমাধানে কাজ করছে, তখন একটি মহল উসকানি দিয়ে বিশৃঙ্খলা করতে চাইছে। তবে সমালোচনা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য, কিন্তু উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। একজন মাঠের মানুষ যখন নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে এসে তৃণমূলের কথা বলেন, তখন তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আসবেই। পাঠকের উচিত হবে, কোনো তথ্য শেয়ার করার আগে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা মূলধারার গণমাধ্যম থেকে যাচাই করে নেওয়া। তাই গুজবে কান দেবেন না, খেলাধুলার পাশে থাকুন।