1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
  4. : temp-login-BxH6QyEPU5XH7Ed :
সংবিধান সংশোধনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও অংশগ্রহণ কেন জরুরি - আজকের কাগজ
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
লক্ষ্মীপুরে ইসলামী যুব আন্দোলনের নতুন কমিটি ঘোষণা দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৪ জনের মৃত্যু অলিম্পিয়াডে স্বর্ণজয়ী শিশুদের সাফল্য ও দেশের শিক্ষার বাস্তব চিত্র দিল্লিতে থাকা হাসিনা আর রাজনীতি করতে পারবেন না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মরিশাসে কাচের বাক্স চাপায় তিন বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যু সংবিধান সংশোধনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও অংশগ্রহণ কেন জরুরি পদ্মা সেতু হয়ে প্রথমবারের মতো রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের চালান ট্রাম্পের: পুরো ইরানকে ‘ধ্বংস’ করে দেওয়ার সংস্কার বাস্তবায়নে জাতীয় কমিটি গঠনের পথে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দল হ্যাটট্রিকের সুবর্ণ সুযোগ হারিয়ে হতাশ হাসান মাহমুদ

সংবিধান সংশোধনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও অংশগ্রহণ কেন জরুরি

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬ ১:০৯ পিএম
শেয়ার করুন

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রেক্ষাপটে সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী আকাঙ্ক্ষা এবং নির্বাচিত সরকারের অভিপ্রায় অনুযায়ী সংবিধান পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার সভাপতিত্ব করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এই কমিটি ডিসেম্বরের মধ্যেই তাদের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে এবং বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বিরোধী দল এই পুরো প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং তারা এই সংলাপে যুক্ত হতে অস্বীকার করেছে। আদালত এ-ও ইঙ্গিত দেন যে পরবর্তী দুটি নির্বাচন এ ব্যবস্থার অধীনে হতে পারে। এরপর তিনটি বিতর্কিত নির্বাচন হয়েছে।

কমিটি কী ধরনের সুপারিশ চূড়ান্ত করবে, তা নিয়ে জনপরিসরে নানামুখী বিতর্ক চলছে। প্রশ্ন উঠছে, জুলাই সনদের কোন অংশগুলো টিকে থাকবে বা সংবিধানে উচ্চকক্ষ যুক্ত হবে কি না। তবে এ প্রশ্নগুলোর চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে এই প্রক্রিয়াটি কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে তা। কারা এই আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কার অবস্থান প্রাধান্য পাচ্ছে—এসব বিষয় সাংবিধানিক রাজনীতির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের সাংবিধানিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে আলোচনার পরিবর্তে প্রায়শই ফরমান জারির প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, যা গণতান্ত্রিক আলোচনার পথে বড় বাধা। এর চেয়ে জরুরি প্রশ্ন হলো, আমরা উত্তরে পৌঁছাচ্ছি কীভাবে। আমাদের সাংবিধানিক ইতিহাসে এর উদ্বেগজনক নজির আছে। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বেলায় আমরা সাধারণত ফরমান জারি করি। সেই গণতান্ত্রিক আলোচনার জন্য প্রয়োজন, যাঁরা দ্বিমত পোষণ করেন, তাঁরা এক টেবিলে বসবেন এবং প্রকাশ্যে যুক্তিতর্ক করবেন। বাদ পড়ার কারণে হোক বা স্বেচ্ছায়, তাঁরা অনুপস্থিত থাকলে সংখ্যাগরিষ্ঠ একাই সিদ্ধান্ত নেয়। পরাজিত পক্ষ তখন সেই সিদ্ধান্ত উল্টে দেওয়ার পালার অপেক্ষায় থাকে। এক সপ্তাহের মধ্যে কমিটি ব্যবস্থাটি বাতিলের সুপারিশ করে। শুধু আদালতের আদেশ দিয়ে এই অবস্থান বদল ব্যাখ্যা করা যায় না।

আলাপ-আলোচনার টেবিল থেকে অনুপস্থিত থাকা বা বর্জন করার বিষয়টি বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতির একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা। প্রধান দুই রাজনৈতিক দলই অতীতে এই সংস্কৃতির অংশীদার ছিল। ১৯৯৪ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামী পঞ্চম সংসদ বর্জন করেছিল। ওই বছরের ১১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট সংসদ বর্জনের বিষয়টি অসাংবিধানিক বলে রায় দিয়েছিলেন। এরপর ১৭ দিনের মাথায় বিরোধী দলের ১৪৭ জন সংসদ সদস্য একযোগে পদত্যাগ করেছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালে রাষ্ট্রপতির রেফারেন্সের ভিত্তিতে আপিল বিভাগ অভিমত দেয় যে, সংসদ বর্জন সংবিধানের ৬৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অনুপস্থিতি হিসেবে গণ্য হবে। এই আইন অনুযায়ী, সংসদের পূর্বানুমতি ছাড়া টানা ৯০ কার্যদিবস অনুপস্থিত থাকলে সদস্যপদ শূন্য হয়ে যায়। পরে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেন। এই বিধান অনুযায়ী সংসদের অনুমতি ছাড়া টানা ৯০ বৈঠক দিবস অনুপস্থিত থাকলে সদস্যপদ শূন্য হয়। তবু সংসদ বর্জনের পুরোনো ধারা অব্যাহত থাকে।

২০১৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময়জুড়ে সংসদ বর্জনের ঘটনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রায় নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিরোধী সদস্যরা সদস্যপদ রক্ষা করার প্রয়োজনে শেষ মুহূর্তে সংসদে ফিরতেন, তবে সংসদে যুক্তিতর্কের মাধ্যমে মতভেদ নিরসনের দৃশ্য খুব একটা দেখা যায়নি। এসব বিরোধ প্রায়শই রাজপথে গড়িয়েছে এবং রাজনীতিকে এক চরম অস্থিরতায় ঠেলে দিয়েছে। একই অবস্থা দেখা গেছে অনির্বাচিত সরকারের সময় নেওয়া সংস্কার উদ্যোগের ক্ষেত্রেও। ২০০৭-০৮ সালের সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি বেশ কিছু সংস্কার করলেও রাজনৈতিক দলগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ না থাকায় অনেক উদ্যোগের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। ২০০৭-০৮ সালের সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে নজিরবিহীন দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চালায়। সংসদে যুক্তিতর্কের মধ্য দিয়ে মতভেদের মীমাংসা নাগরিকেরা কমই দেখেছেন। অনির্বাচিত সরকারের হাতে নেওয়া সংস্কারের অভিজ্ঞতাও খুব আলাদা নয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সবচেয়ে স্থায়ী অবদানগুলোর একটি জাতীয় পরিচয়পত্র।

২০১০ সালের জুলাই মাসে গঠিত বিশেষ সংসদীয় কমিটির গঠনপ্রক্রিয়াও একটি ভিন্ন প্রবণতা প্রদর্শন করেছিল। ১৫ সদস্যের ওই কমিটির ১২ জনই ছিলেন আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা এবং বাকি তিনজন ছিলেন মহাজোটের শরিক দলের। বিএনপি ওই কমিটিতে কোনো সদস্য মনোনয়ন দেয়নি, যদিও ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর সরকারের মেয়াদ তখন দুই বছরও পূর্ণ হয়নি। ওই কমিটি আইনজ্ঞ ও সম্পাদকসহ শতাধিক নাগরিকের মতামত নিলেও শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক নেতৃত্বের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। ২০১১ সালের মে মাসে আপিল বিভাগ তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করলে পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে। পরবর্তীতে পঞ্চদশ সংশোধনী পাসের সময়ও বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতেই বড় ধরনের সাংবিধানিক পরিবর্তন আনা হয়েছিল। ২০১০ সালের জুলাইয়ে গঠিত বিশেষ সংসদীয় কমিটি তৃতীয় একটি প্রবণতা দেখায়। ২০১১ সালের ১০ মে আপিল বিভাগ এক সংক্ষিপ্ত আদেশে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন। ২০২৪ সালের হাইকোর্টের একটি রায়ে লিপিবদ্ধ ঘটনাক্রম অনুযায়ী, কমিটি ২৯ মে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বহাল রাখার সুপারিশ করে। ৩০ জুন বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়।

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার আগস্টের পর থেকে একটি কমিশনের মাধ্যমে জাতীয় ঐকমত্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছে। প্রায় ৩০টি দলের সঙ্গে আলোচনার পর ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবরে বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি দল কিছু বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করে। ১১ দিন পর কমিশন একটি গণভোটের প্রস্তাব দিলে বিএনপি নেতারা আপত্তি জানান। কমিশনের সহসভাপতি তখন যুক্তি দেন যে, কোনো দলের নিজস্ব মতের চেয়ে জনগণের অনুমোদনই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সেই গণভোটে পুরো প্যাকেজের পক্ষে রায় এলেও নাগরিকরা কোন সংস্কারটি সমর্থন করেছেন আর কোনটি কেবল মেনে নিয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। দলীয় রাজনীতি পুনর্গঠনের সেই প্রচেষ্টা নির্বাচিত সরকার ফিরে আসার পর আর টেকেনি।

বর্তমান সংবিধান সংশোধন কমিটি জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী দল, আদিবাসী প্রতিনিধি, শিক্ষক-শ্রমিক এবং সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করছে, যা ইতিবাচক। তবে কমিটির গঠন এখনো পুরোপুরি নির্বাহী বিভাগনির্ভর রয়ে গেছে। দ্য ডেইলি স্টারের তথ্যমতে, ক্ষমতাসীন দলের সদস্যরা বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারকেও প্রাধান্য দিতে আগ্রহী। কিন্তু সংবিধান সবার জন্য উন্মুক্ত হওয়া বাঞ্ছনীয়, এটি কোনো একটি দলের কর্মসূচির ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া কাম্য নয়। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল তাদের জন্য বরাদ্দ পাঁচটি আসন প্রত্যাখ্যান করেছে এবং তারা রাষ্ট্রপতির আদেশে প্রস্তাবিত সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানাচ্ছে। তবে এই পরিষদের আইনি ভিত্তি এখন হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। দল ও নির্বাহী বিভাগ যেখানে একীভূত, সেখানে কমিটির পক্ষে তাঁর অবস্থানের বাইরে যাওয়া কঠিন।

বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সরকার একাই সংবিধান সংশোধনের পথে এগোচ্ছে, অন্যদিকে বিরোধী দলও ফলাফল প্রত্যাখ্যানের যুক্তি পাচ্ছে।

এই অচলাবস্থা নিরসনে কমিটির স্বচ্ছতা বাড়ানোর অবকাশ রয়েছে।

মন্ত্রিসভার বাইরের কাউকে কমিটির সভাপতি নিয়োগ দেওয়া হলে সংসদের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ থাকে, যদিও অনুচ্ছেদ ৭০ অনুযায়ী দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েই যায়।

এছাড়া, বিল সংসদে তোলার আগে খসড়াটি জনমতের জন্য উন্মুক্ত করলে নাগরিকরা মতামত দেওয়ার সুযোগ পেতেন।

সংবিধান সংস্কারের মতো একটি মৌলিক বিষয়ে ১৮০ কার্যদিবসের সময়সীমা বাধা না হয়ে বরং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার দিকে মনোযোগ দেওয়া জরুরি। যারা এখন সাংবিধানিক রাজনীতির বাইরে আছেন, তাদের কীভাবে মূলধারায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব, সেটিই বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

এই বিভাগের আরো খবর