
দিল্লিতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভবিষ্যতে আর বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। শুক্রবার চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বাবুনগরী মাদরাসায় আয়োজিত এক মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, যারা গণহত্যাকারী হিসেবে পরিচিত এবং এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের দুঃখ প্রকাশ বা অনুশোচনা করেনি, তারা আর কখনোই দেশের রাজনীতিতে জায়গা পাবে না।
শেখ হাসিনা বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থান করছেন উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের মুখে তিনি দেশ থেকে পালিয়েছেন। দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের শাসনামলে আলেম-ওলামাসহ সাধারণ মানুষ যে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তা দেশবাসী ভুলে যায়নি। তিনি শাপলা চত্বরের ঘটনার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন, যেখানে বহু মানুষ শহীদ হয়েছেন কিন্তু অনেকের পরিচয় ও কবরের ঠিকানা এখনো অজানা রয়ে গেছে।
জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পরিসংখ্যান তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী এই আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ শহীদ হয়েছেন। এর আগের দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনামলে প্রায় ৩ হাজার মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন এবং প্রায় ৭ হাজার মানুষ হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের কবলে পড়েছেন। এছাড়া লাখ লাখ মানুষ হামলা ও মামলার শিকার হয়ে নিপীড়ন ভোগ করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি প্রশ্ন রাখেন, দেশের মানুষ কি আবার সেই ফ্যাসিবাদের পুনরাগমন চায়?
ইসলামের নাম ব্যবহার করে রাজনীতি করা একটি দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দলটি নিজেদের ইসলামী দাবি করলেও তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে শরিয়াভিত্তিক শাসন বা ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠার কোনো প্রতিফলন নেই। ধর্মের নাম ব্যবহার করে তারা দেশে বিভক্তি তৈরি করছে। বিএনপির রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তারা জাতীয়তাবাদী আদর্শ ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাস করে। সংবিধানে বিসমিল্লাহ সংযোজন করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তারা এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চায় যেখানে সব জনগোষ্ঠী ঐক্যবদ্ধ থাকবে।
আগামী দিনের করণীয় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি সংবিধানের প্রস্তাবনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে মহান আল্লাহর ওপর দৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাসের বিষয়টি পুনরায় যুক্ত করা হবে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি থেকে এসব বিষয় বাদ দিয়েছিলেন, যা বিএনপি আবার ফিরিয়ে আনবে।
আন্দোলনের নামে অস্থিরতা সৃষ্টিকারীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, সমালোচনা ও গঠনমূলক আলোচনা করা যেতে পারে, কিন্তু দেশের মানুষের ক্ষতি করা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি অর্থনৈতিক উন্নয়ন, রপ্তানি বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের কাজের ওপর জোর দেন। গার্মেন্টস খাতে অস্থিরতার পেছনে সেই পুরোনো ফ্যাসিবাদী শক্তির হাত রয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।