
কুড়িগ্রামের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে ধান সংরক্ষণ করতে গিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের খামার হলোখানা মন্ডলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, সকালে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ক্লাসে এসে দেখে পুরো শ্রেণিকক্ষজুড়ে ধান ছড়িয়ে রাখা হয়েছে। সেই অবস্থায়ই কিছু সময় পাঠদান চললেও পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি শামছুল হক কয়েকজন লোক নিয়ে এসে শিক্ষার্থীদের কক্ষ থেকে বের করে দেন। এরপর সেখানে ধান সংরক্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, ধানের কারণে শ্রেণিকক্ষে স্বাভাবিকভাবে পাঠগ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছিল না। পরে তাদের বাইরে চলে যেতে বাধ্য করা হয়। বিষয়টি প্রধান শিক্ষককে জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যালয়ের মাঠ ও শ্রেণিকক্ষ ধান মাড়াই, ধান-খড় শুকানো এবং সংরক্ষণের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ সময় কয়েকজন এলাকাবাসী ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে সাবেক সভাপতির সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গোলাম রসুল বলেন, “আগে থেকেই ধান রাখার বিষয়টি জানানো হয়েছিল। বৃষ্টির কারণে সময়মতো সরানো সম্ভব হয়নি।” তবে শিক্ষার্থীদের বের করে দেওয়ার বিষয়টি তিনি জানেন না বলে দাবি করেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক সভাপতি শামছুল হক বলেন, শিক্ষকদের অনুমতি নিয়েই শ্রেণিকক্ষে ধান রাখা হয়েছে।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা জাহেদুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।