
দেবদারুর ছায়াঘেরা সবুজ ক্যাম্পাসে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখকে বরণ করে নিয়েছে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট)। দিনব্যাপী নানা আয়োজনে মুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস, যেখানে ছিল বর্ণাঢ্য র্যালি, ঐতিহ্যবাহী প্রদর্শনী এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
সকালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে একটি বর্ণিল র্যালি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। র্যালিতে গ্রামীণ বাংলার চিরচেনা ঐতিহ্যের নানা নিদর্শন—নকশিকাঁথা, মাটির পাত্র, ঢোল, বাঁশি ও কৃষিজীবনের উপকরণ—উপস্থাপন করা হয়। এতে অংশ নেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা, যা পুরো ক্যাম্পাসে এক প্রাণবন্ত উৎসবের আবহ তৈরি করে।
আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. এইচ এম রাসেল, ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের উপপরিচালক অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
নববর্ষ উদযাপনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যা রুয়েটের সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘অনুরণন’-এর সহযোগিতায় আয়োজন করা হয়। নাচ, গান, আবৃত্তি ও লোকজ পরিবেশনার মাধ্যমে বাঙালির চিরন্তন সংস্কৃতি মঞ্চে প্রাণ ফিরে পায়। পাশাপাশি স্থাপত্যবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থীদের তৈরি বাঙালি সংস্কৃতির বিভিন্ন রঙিন ও নান্দনিক নিদর্শন পুরো আয়োজনে যুক্ত করে বিশেষ মাত্রা।
এছাড়াও ক্যাম্পাসজুড়ে বসে বিভিন্ন বাহারি স্টল; পিঠাপুলি, পান্তা ইলিশ, হস্তশিল্প ও ঐতিহ্যবাহী সামগ্রীর সমাহারে দিনটি পরিণত হয় এক মিলনমেলায়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে নববর্ষের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র।
সব মিলিয়ে, দেবদারুঘেরা রুয়েটে নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন হয়ে ওঠে বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি।
Leave a Reply