1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
শিশুর আঙুল কেটে ফেলার অভিযোগে স্ত্রীসহ পুলিশ কনস্টেবল গ্রেপ্তার - আজকের কাগজ
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫১ অপরাহ্ন

শিশুর আঙুল কেটে ফেলার অভিযোগে স্ত্রীসহ পুলিশ কনস্টেবল গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৯:০১ পিএম
শেয়ার করুন

নাটোরে দুই শিশুর বিরোধের জেরে আট বছরের শিশু বায়েজিদ বিন মাহমুদের ডান হাতের আঙুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কনস্টেবল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত শিশুটিকে প্রথমে নাটোর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় কনস্টেবল শাকিল ও তার স্ত্রী নাছরিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার রাতে তাদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কনস্টেবল শাকিল নাটোরে কর্মরত। স্ত্রী ও চার বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে তিনি শহরের চেয়ারম্যান রোড এলাকার একটি বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন। একই বাড়ির নিচতলায় ব্যাংক কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান মিলন তার পরিবার নিয়ে থাকেন। বায়েজিদ তার ছেলে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বুধবার রাতে ওই বাড়িতে পারিবারিকভাবে পিকনিকের আয়োজন করা হয়। সেখানে শাকিলের চার বছর বয়সী মেয়ের সঙ্গে বায়েজিদের ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসা করা হয়।

তবে পরদিন বৃহস্পতিবার দায়িত্ব পালন শেষে বাসায় ফিরে শাকিল বায়েজিদকে জোর করে নিজের বাসায় নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন শিশুটির পরিবার। কিছুক্ষণ পর বায়েজিদ ডান হাতের বিচ্ছিন্ন আঙুল নিয়ে কান্না করতে করতে নিজের বাড়িতে ফিরে আসে।

শিশুটির মা-বাবাকে সে জানায়, খাটের পায়ার ওপর তার হাত রেখে তরকারি কাটার হাসুয়া দিয়ে আঙুল কেটে দেওয়া হয়েছে।

এরপর শিশুটির মা প্রতিবেশীদের বিষয়টি জানান এবং বায়েজিদকে নাটোর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনার পর কনস্টেবল শাকিল পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন, বায়েজিদ তার মেয়েকে যৌন নিপীড়ন করেছে। এ অভিযোগের পর তিনি স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে বাসা ছেড়ে চলে যান।

এদিকে খবর পেয়ে পুলিশ ওই বাসায় যায়। বাসায় তালা থাকায় পুলিশ তা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পুলিশের দাবি, সেখানে মেঝে ও খাটের পাটাতনে রক্তের দাগ পাওয়া যায়। মেঝের এক পাশে বিচ্ছিন্ন আঙুলের একটি অংশও পাওয়া গেছে।

শিশুটির বাবা মাহমুদুল হাসান মিলন বলেন, একই বাড়িতে থাকার কারণে তার ছেলের সঙ্গে কনস্টেবলের মেয়ের চলাফেরা ছিল। পিকনিকের সময় দুই শিশুর মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়েছিল। বিষয়টি তেমন গুরুতর ছিল না। অথচ তার ছেলেকে ঘরে নিয়ে গিয়ে আঙুল কেটে দেওয়া হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

নাটোর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক মাহবুর রহমান বলেন, ডান হাতের একটি আঙুলের কিছু অংশ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল।

নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান বলেন, দুই শিশুর বিরোধের জেরে কনস্টেবল শাকিল ও তার স্ত্রী নাছরিনের বিরুদ্ধে বায়েজিদের ডান হাতের আঙুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তিনি জানান, ঘটনার পর শাকিল ও তার স্ত্রী আত্মগোপনে ছিলেন। পরে তারা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে বায়েজিদের বাবা মাহমুদুল হাসান মিলন বাদী হয়ে শাকিল ও নাছরিনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। মামলার পর তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। শুক্রবার সকালে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, কনস্টেবল শাকিল তার মেয়েকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেছেন। পুলিশ বলছে, ওই অভিযোগও তদন্ত করে দেখা হবে।

এই বিভাগের আরো খবর