
ভোলার দৌলতখানে যৌতুকের দাবিতে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে দাহ্য পদার্থ দিয়ে শরীর ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মো. হাসনাইন আহম্মেদ ওরফে মুসাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
আটক মুসা একই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মিলন মাঝির ছেলে। তিনি পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি।
এর আগে গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে ভুক্তভোগী আঁখি আক্তারের শরীরে অ্যাসিড জাতীয় দাহ্য পদার্থ দিয়ে ঝলসে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী আঁখি আক্তার। আঁখি জানান, এ ঘটনার দুদিন পর পালিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ওই গৃহবধূকে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী গৃহবধূ ও তার পরিবার অভিযোগ করে, গত পাঁচ মাস আগে মিলন মাঝির ছেলে হাসনাইন আহম্মেদ মুসার সঙ্গে আখির বিয়ে হয়। বিয়েতে ছেলে পক্ষের দাবি অনুযায়ী যৌতুকের স্বর্ণালংকার ও ব্যবসা করতে টাকা না দেওয়ায় বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক কলহ চলে আসছে। বিষয়টি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে বসা হয়।
কিন্তু বিষয়টির সমাধান হয়নি। এটি নিয়ে আঁখিকে তার স্বামী মুসা বেশ কয়েকবার মারধরও করেছেন। পরে আঁখি বাবার বাড়ি চলে যান।
পরে গত শুক্রবার তার বাবা তাকে স্বামীর বাড়িতে দিয়ে আসেন। সেদিনও মুসা তাকে মারধর করেন।
পরে রাতে শোয়ার পর তার বুকে এসিড জাতীয় দাহ্য পদার্থ নিক্ষেপ করেন মুসা। এতে তার বুক ও পেট ঝলসে যায়। এ অবস্থায় তাকে দুদিন ঘরে আটকে রাখা হয়। এমনকি আঁখিকে তার বাবা-মায়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। রবিবার দুপুরে গোপনে পালিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান আঁখি। পরে তাকে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসায় উন্নতি না হওয়ায় মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে তাকে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে ভর্তি আঁখি আক্তার অভিযোগ করেন, তার স্বামী মুসা তাকে প্রায়ই যৌতুকের টাকার জন্য মারধর করতেন। টাকা না পেয়ে তার এ অবস্থা করেছেন। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি।
ভোলা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. তৈয়বুর রহমান বলেন, দুপুর ১২টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আঁখি আক্তার নামের ১৮ বছর বয়সী এক নারী আসেন। তার অভিযোগ, তাকে অ্যাসিড নিক্ষেপ করেছে। আমরা প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। তার বুক ও পেটের ওপরের অংশে বার্ণ রয়েছে। এটি ত্বকের উপরিভাগে হয়েছে, মাংসে পৌঁছায়নি। তার চিকিৎসা চলমান রয়েছে, আশা করি সে দ্রুত সুস্থ হয়ে যাবেন।
দৌলতখান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. খলিলুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে হাসানাইন আহম্মেদ মুসা নামের একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তবে এখনো মামলা হয়নি। মামলা হলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।