
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র ফারদিন নূর পরশকে সর্বশেষ যাত্রাবাড়ীতে দেখা গেছে। ঘটনার দিন রাত ২টার দিকে যাত্রাবাড়ীতে দেখা যায় তাঁকে। সেখান থেকে তিনি একটি লেগুনায় ওঠেন।
আজ বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।
ওই রাতে তিন-চারজন যুবক তাঁর সঙ্গে লেগুনায় তারাবোর দিকে যায়। ওই লেগুনার চালক ও আরোহীদের খোঁজা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ডিবি।
ডিবি প্রধান জানান, পরশকে চনপাড়ায় খুন করা হয়েছে এমন মনে হচ্ছে না। রাত আড়াইটায় তার চনপাড়ায় যাওয়ার কথা নয়।
তিনি বলেন, ঘটনার দিন রাত ২টার দিকে চারজন ফারদিনকে যাত্রাবাড়ী থেকে লেগুনায় তারাবোর দিকে নিয়ে যায়। সুলতানা কামাল সেতু হয়ে বিশ্বরোডের দিকে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। পরশকে সাদা গেঞ্জি পরা এক লোক লেগুনায় তুলে নিতে দেখা গেছে। এ ঘটনায় লেগুনাচালক নজরদারিতে আছে।
সময় ও দূরত্ব বিবেচনায় ওই রাতে যাত্রাবাড়ী থেকে ফারদিনের চনপাড়ায় যাওয়া সম্ভব নয় মন্তব্য করে ডিবি প্রধান বলেন, ওখান থেকে চনপাড়ার দিকে রওনা দিলেও রাত আড়াইটার মধ্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তাই খুন চনপাড়ায় নয়, অন্য কোথাও হতে পারে বলে ধারণা করছি আমরা। রহস্য উদঘাটনে ডিবি কাজ করছে।
নিখোঁজের তিন দিন পর নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে গত ৭ নভেম্বর রাতে ফারদিনের লাশ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁর শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে চিকিৎসকরা জানান। গত ৯ নভেম্বর রাতে তাঁর বাবা নূরউদ্দিন রানা রামপুরা থানায় মামলা করেন। সেই মামলায় ফারদিনের বান্ধবী বুশরাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এর আগে গত মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) তদন্তকারী ইউনিট র্যাব জানায়, তদন্তে অনেক অগ্রগতি আছে। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের চনপাড়ার আশপাশের এলাকায় ফারদিনকে হত্যা করেছে মাদক কারবারি রায়হান গ্যাং। পুলিশের ওপর হামলাসহ এই গ্রুপের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে দশটিরও বেশি।
আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তবে হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং গ্রেপ্তারের খবর জানাতে পারেনি তারাও।
ডিবি এবং র্যাবের এমন আলাদা বক্তব্যে ফারদিনের হত্যা মামলার জট যেন আরো বেশি ঘোলাটে হচ্ছে।
Leave a Reply