
প্রথমে কানের মধ্যে খসখসে অনুভূতি, তারপরে অবিরাম কর্কশ শব্দ। পার্ট টাইম শিক্ষক এবং কন্টেন্ট নির্মাতা লুসি ওয়াইল্ড প্রাথমিকভাবে ভেবেছিলেন কানের ভেতর হয়তো মোমের মতো কিছু পড়েছে। কিন্তু অস্বস্তি যখন ক্রমেই বাড়তে থাকে তখন তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
ওয়াইল্ড একটি স্মার্টবাড ব্যবহার করে কানের ভেতরের অস্বস্তির কারণ অন্বেষণ করতে চেয়েছিলেন- এটি একটি ক্যামেরা দিয়ে সজ্জিত কান-পরিষ্কারের ইলেকট্রনিক ডিভাইস, উচ্চ প্রযুক্তির Q-টিপের মতো। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যামেরা দিয়ে দেখার পর ওয়াইল্ড খুঁজে পান তার কানে বাসা বেঁধেছে মাকড়সা। যা দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন বছর ২৯ এর এই তরুণী।
চেশায়ার-ভিত্তিক তিন সন্তানের মা যুক্তরাজ্যের জরুরি নম্বরে কল করে বলেন “আমি এটি বের করার চেষ্টা করছিলাম। যুক্তরাজ্যের জরুরি নম্বর ১১১তে কল করার পর আমার কানে গরম জলপাই তেল দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। অবশেষে মাকড়সাটি আমার কান থেকে বেরোয়। এটি তেলে ঢাকা ছিল এবং আমার শিশুর নখের আকারের ছিল – প্রায় ১ সেন্টিমিটার। মাকড়সাটি বের করার পর তার কান থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল এবং তার শ্রবণশক্তি দুর্বল ছিল। চিকিৎসকদের সাথে পরামর্শ করার পর তাকে এক সপ্তাহের অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া হয়।
কিছুদিন পর, ওয়াইল্ড আবার কানে ব্যথা অনুভব করতে শুরু করেন, যার ফলে তাকে স্মার্টবাড ব্যবহার করে আবার তার কানের ভেতরের অংশ দেখার দরকার হয়ে পড়ে।
ওয়াইল্ড দ্রুত হাসপাতালের ইএনটি বিভাগে যান এবং চিকিৎসকরা তাকে একটি ভয়ঙ্কর রোগের কথা জানান। তারা বলেন ওয়াইল্ড- এর কানে রীতিমতো সংসার পেতে বসেছে মাকড়সারা। হাসপাতালের চিকিৎসকরা এরকম ঘটনা আগে দেখেননি। চিকিৎসকরা তার কান পরিষ্কার করে মাকড়সার বাসা ধ্বংস করেন। ওয়াইল্ড দাবি করেছেন যে, তিনি যে অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন তা সন্তানের জন্ম দেবার থেকেও কঠিন।
সূত্র : এনডিটিভি
Leave a Reply