1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
কুবিতে শিক্ষকের মেসেজে ‘হা হা’ রিয়েক্ট দেওয়ায় আটকে দেওয়া হলো শিক্ষার্থীর সনদ - আজকের কাগজ
রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০২ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
কিছু রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে: প্রধানমন্ত্রী নওগাঁয় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এআই কানেক্টেড ডিজিটাল সারভিলেন্স-সাইবার ল্যাব উদ্বোধন কুড়িগ্রামে ফ্যানে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে গিয়ে প্রাণ গেল শাহাজাহানের ব্রহ্মপুত্র নদে সেতু নির্মাণের দাবিতে কটিয়াদী ও মনোহরদী সীমান্তবর্তী এলাকায় গণস্বাক্ষর ও মানববন্ধন ভূমি প্রশাসনে বড় রদবদল, প্রজ্ঞাপন জারি গুপ্তদের আশ্রয়ে স্বৈরাচার ফেরার অপচেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৯১৭ জাতিসংঘ অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিলিতে বিভিন্ন মামলায় ৯ আসামি গ্রেপ্তার, আদালতে প্রেরণ কালিয়াকৈরে কাভার্ডভ্যান- সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষ নিহত ৩

কুবিতে শিক্ষকের মেসেজে ‘হা হা’ রিয়েক্ট দেওয়ায় আটকে দেওয়া হলো শিক্ষার্থীর সনদ

শারাফাত হোসাইন, কুবি প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৭:০৭ পিএম
শেয়ার করুন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) মার্কেটিং বিভাগের এক নারী শিক্ষকের মেসেজে হা হা রিয়েক্ট দেওয়ার কারণে নিজ বিভাগের এক শিক্ষার্থীর সার্টিফিকেট আটকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মুজিবুর রহমান মার্কেটিং বিভাগের এমবিএ ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সহকারী অধ্যাপক মাশিয়াত যাহিন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মুজিবুর রহমানের ইন্টার্নশিপ সুপারভাইজার ছিলেন। মুজিবুর রহমানের আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি ইন্টার্নশিপে তাকে ২ দশমিক ৫০ সিজিপিএ দেন বলে জানা গেছে। পরে মুজিবুর রহমান ওই শিক্ষককে ধন্যবাদ জানিয়ে সারাজীবন বিষয়টি মনে রাখবেন বলে মেসেজ দেন। এর উত্তরে শিক্ষক একটি বার্তা দিলে মুজিবুর রহমান তাতে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট দেন। ঘটনাটিকে অশোভন আচরণ উল্লেখ করে ওই শিক্ষক রেজিস্ট্রার দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেন।

আরও জানা যায়, গত ২৫ আগস্ট মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেহের নিগারের স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ রেজিস্ট্রার দপ্তরে জমা দেওয়া হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়, বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাশিয়াত যাহিন শিক্ষার্থী মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগটি বিভাগীয় প্রধানকে জানান। পরে বিষয়টি একাডেমিক সভায় উত্থাপন করা হয়। সভায় উপস্থিত শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা শেষে বিষয়টি রেজিস্ট্রারের কাছে জানানো হয়েছে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, এমবিএ ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুজিবুর রহমান ইন্টার্নশিপ কার্যক্রমে যথাযথ মনোযোগ ও আন্তরিকতা প্রদর্শন করেননি। তিনি নির্ধারিত সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে ইন্টার্নশিপ প্রতিবেদন জমা দেন। এরপরও শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের বিষয়টি বিবেচনা করে প্রতিবেদন গ্রহণ করা হয়। প্রচলিত মূল্যায়ন পদ্ধতি ও প্রতিবেদনের গুণগত মানের ভিত্তিতে তাকে নম্বর দেওয়া হয়।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ফলাফল প্রকাশের পর মুজিবুর রহমান শিক্ষককে জানান যে তিনি ইন্টার্নশিপে উত্তীর্ণ হয়েছেন। এ সময় তিনি ব্যঙ্গাত্মক ও শিষ্টাচারবহির্ভূতভাবে শিক্ষককে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, তিনি তাকে মনে রাখবেন। পরে শিক্ষক ওই বক্তব্যের জবাব দিলে শিক্ষার্থী তাতে ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’ দেন। অভিযোগপত্রে এই প্রতিক্রিয়াকে শিক্ষকের প্রতি অসম্মানজনক আচরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, আমি গত পরশু সনদ তুলতে গেলে বিভাগীয় প্রধান আমাকে সনদ না তোলার জন্য বলেন। এর কারণ জানতে চাইলে আমাকে জানানো হয়, আমার বিরুদ্ধে রেজিস্ট্রার দপ্তরে একটি অভিযোগ রয়েছে। তাই এখন আমি সনদ তুলতে পারব না।

তিনি আরও বলেন, আমি একটি মেসেজে ধন্যবাদ দিয়েছি, উনি রিপ্লাই দিয়েছেন। সেখানে আমি ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’ দিয়েছি। এখন একটি ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’-এর জন্য আমার সার্টিফিকেট আটকানো যায় কি না, সেটাই আমি জানতে চাই।

অভিযোগকারী শিক্ষক মাশিয়াত যাহিন বলেন, ‘আমার যে অভিযোগ ছিল, তা আমি লিখিতভাবে উল্লেখ করেছি। তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে আমাকে এখনো কোনো কিছু জানানো হয়নি।

মার্কেটিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মেহের নিগার বলেন, ‘মুজিবের বিরুদ্ধে তার সুপারভাইজারের একটি অভিযোগ ওঠায় একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরে অভিযোগপত্র দায়ের করা হয়েছে। রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসার পর তিনি সনদপত্র উত্তোলন করতে পারবেন।’

কি অভিযোগের রয়েছে তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোনো একটি বিষয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তার সুপারভাইজার অভিযোগটি করেছেন। তবে অভিযোগের বিষয়বস্তু সম্পর্কে আমি বিস্তারিত কিছু জানি না।’

শিক্ষার্থীর সার্টিফিকেট আটকে রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ নূরুল করিম চৌধুরী বলেন, এভাবে তো সার্টিফিকেট আটকানো যায় না। তবে কারো বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ থাকে তাহলে সাময়িক স্থগিত রাখা যায়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মজিবুর রহমান মজুমদার বলেন, এ বিষয়ে একটা অভিযোগ পেয়েছি। আমি বিষয়টি উপ-উপাচার্যের কাছে পাঠবো। তিনি বিষয়টি দেখবেন।

এই বিভাগের আরো খবর