
কুমিল্লার একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী জান্নাতুন নাঈম ফারিহার (২৩) মৃত্যুর ঘটনায় স্বামীসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে।
বুধবার (৬ মে) রাতে ফারিহার বাবা মো. হানিফ বাদী হয়ে ৫ জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ দাখিল করে।মামলায় ফারিহার স্বামী মেহেদী হাসান হৃদয়, শ্বশুর আব্দুর রহিম, শাশুড়ি আফরোজা বেগম, ননদ রীমা আক্তার ও রীমার স্বামী জাকারিয়াসহ ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৌহিদুল আনোয়ার জানান, ফারিয়ার বাবার অভিযোগ আপাতত আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে হত্যার আলামত আসলে তখন বিধি মোতাবেক মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে তদন্ত হবে।
ওসি জানান, ঘটনার পর থেকে ফারিহার স্বামীসহ অন্যরা পলাতক রয়েছে। তার স্বামীকে আটক করতে পারলে মৃত্যু রহস্যের জট খুলবে।মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ফারিহা ও হৃদয় একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুবাদে তাদের মধ্যে প্রেম-ভালোবাসার সম্পর্ক হয়। পরে উভয় পরিবারের সম্মতিতে গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার আবদুর রহিমের ছেলে মেহেদী হাসান হৃদয়ের সঙ্গে ১৫ লাখ টাকার দেনমোহরে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, বিবাহের পর থেকে তার স্বামী ও পরিবারের লোকজন ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। ফারিহা তার স্কুলশিক্ষক বাবার নিকট থেকে টাকা এনে দিতে না পারায় পরিবারে কলহ দেখা দেয়। এ নিয়ে একাধিকবার তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফারিহার বাবা বলেন, আমার মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে আসামিরা হত্যার পর সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়ে ৯৯৯-এ কল করে পুলিশ ডেকে আনে। থানায় মরদেহ নেওয়ার পর আমাদের জানানো হয় ফারিয়া আত্মহত্যা করেছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে কুমিল্লা নগরীর দেশওয়ালীপট্টি (মুন্সেফবাড়ি) এলাকার ‘কাশেম গার্ডেন’ নামের বহুতল ভবনের ফ্ল্যাট থেকে পুলিশ ফারিহার মরদেহ উদ্ধার করে। ওই ফ্ল্যাটে তার স্বামীর পরিবার থাকতো। ফারিহা কুমিল্লা সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।