
কক্সবাজারের টেকনাফ সমুদ্র সৈকতে গোসলে নেমে নিখোঁজ হওয়া মাদ্রাসাছাত্র আরিফ উল্লাহর (তৃতীয় জামাত) মরদেহ একদিন পর উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া নৌঘাট এলাকা থেকে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি উদ্ধার করেন। পরে স্বজনরা মরদেহটি আরিফ উল্লাহর বলে শনাক্ত করেন। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার মাগরিবের নামাজের পর তার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
নিহত আরিফ উল্লাহ টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ডেইলপাড়া এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আমান উল্লাহর ছেলে। তিনি টেকনাফের আল জামিয়া আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার তৃতীয় জামাতের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে মাদ্রাসা থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থীর একটি দল টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মহেশখালীয়াপাড়া সংলগ্ন সমুদ্র সৈকতে যায়। সেখানে কয়েকজন ফুটবল খেলছিল এবং অন্যরা সাগরে গোসল করছিল। গোসলের একপর্যায়ে বড় ঢেউয়ের ধাক্কায় আরিফ উল্লাহ পানিতে পড়ে যান।
এ সময় সহপাঠী সাইদি তাকে হাত ধরে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তবে তীব্র স্রোতের কারণে তাকে ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। মুহূর্তের মধ্যেই স্রোতের সঙ্গে ভেসে যান আরিফ উল্লাহ।
ঘটনার পর সহপাঠী, স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনরা সৈকতের বিভিন্ন অংশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও উদ্ধার তৎপরতায় যোগ দেন। তবে বৃহস্পতিবার দিনভর অভিযান চালিয়েও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
শুক্রবার সকালে বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া নৌঘাট এলাকায় স্থানীয়রা একটি মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজন সেখানে গিয়ে মরদেহটি আরিফ উল্লাহর বলে শনাক্ত করেন। পরে তারা মরদেহটি উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।
নিহতের বাবা আমান উল্লাহ বলেন, “বৃহস্পতিবার বিকেলে আমার ছেলেসহ ৩৫ জন মাদ্রাসাছাত্র সমুদ্র সৈকতে গিয়েছিল। গোসলের সময় ঢেউয়ের ধাক্কায় সে পানিতে পড়ে যায়। সঙ্গে থাকা একজন তাকে ধরার চেষ্টা করেও স্রোতের কারণে রাখতে পারেনি। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাকে পাওয়া যায়নি। শুক্রবার সকালে কচ্ছপিয়া নৌঘাট এলাকায় জোয়ারের পানিতে মরদেহটি ভেসে আসার খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসি।”
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল বলেন, বৃহস্পতিবার সমুদ্র সৈকতে গোসল করতে নেমে এক মাদ্রাসাছাত্র নিখোঁজ হন। শুক্রবার বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া নৌঘাট এলাকা থেকে পরিবারের সদস্যরা তার মরদেহ উদ্ধার করেছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।