
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টের তৃতীয় দিনে এসে দারুণভাবে ম্যাচে ফিরেছে বাংলাদেশ। আগের দিন ৪ উইকেটে ১৩৪ রান নিয়ে খেলা শুরু করা সফরকারীরা শেষ পর্যন্ত ২৪৫ রানে অলআউট হয়েছে। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ২৭২ রানের জবাবে অতিথিরা ২৭ রানের পিছিয়ে থেকে ইনিংস শেষ করেছে। ২ উইকেটে ৭৯ রান যোগ করে মধ্যাহ্নবিরতিতে গিয়েছিল তারা। নাঈমের স্পিনে মাত্র ১১ রানের ব্যবধানে শেষ ৪ উইকেট হারিয়ে ২৪৫ রানে অলআউট হয়েছে উইন্ডিজ। তৃতীয় দিনও শুরুটা ভালো হয়েছিল সফরকারীদের। ৪ উইকেটে ১৩৪ রান নিয়ে ব্যাট করতে নেমে দিনের প্রথম আধা ঘণ্টা কোনো উইকেটে হারায়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে দাপট বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি উইন্ডিজ।
দিনের শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটাররা বেশ সাবধানেই এগোচ্ছিলেন। ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফিফটি তুলে নেন ত্যাগনারায়ন চন্দরপল। তবে শরিফুল ইসলামের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ৫৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। চন্দরপলের বিদায়ের পর রস্টন চেজ এবং জাস্টিন গ্রিভস মিলে ষষ্ঠ উইকেটে ৫১ রানের জুটি গড়েন। প্রথম সেশনের শেষভাগে গ্রিভসকে এলবিডব্লিউ করে সেই জুটি ভাঙেন নাঈম হাসান। ৪৬ রানে আউট হন গ্রিভস। এর আগে সিলি পয়েন্টে মুমিনুল হক রস্টন চেজের একটি কঠিন ক্যাচ মিস করেন। ফিফটির পরেই স্লিপের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। দ্বিতীয় সেশনের শুরুটাও ইতিবাচক ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের।সেশনের প্রথম ১৪ বলে তার চার মেরেছিল ৪টি।
মধ্যাহ্নবিরতির পর অবশ্য খেলার মোড় ঘুরে যায়। দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের ইঙ্গিত দিলেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। বিশেষ করে স্পিনারদের দাপটে দিশেহারা হয়ে পড়ে সফরকারীরা। জশিয়া বিশপকে আউট করে আক্রমণের সূচনা করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ক্যাচটা তেমন সহজ না থাকলেও অসম্ভবও ছিল না।
ইনিংসের শেষদিকে দারুণ বোলিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের লোয়ার অর্ডার গুঁড়িয়ে দেন নাঈম হাসান। তিনি শেষ ৩টি উইকেট নিজের নামের পাশে যোগ করেছেন। শামার জোসেফকে লিটন দাসের ক্যাচে ফেরানোর পর জোমেল ওয়ারিক্যানকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তিনি। শেষ ব্যাটার জেইডন সিলসকে মিরাজের ক্যাচ বানিয়ে ইনিংসের ইতি টানেন নাঈম।
এই ম্যাচে ৪ উইকেট নিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এই সাফল্যের মধ্য দিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে নিজের ৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করলেন এই স্পিনার। বর্তমানে তার উইকেট সংখ্যা ৫২। বলের হিসেবে বাংলাদেশের স্পিনারদের মধ্যে তিনিই দ্রুততম সময়ে ৫০ উইকেট শিকারের কৃতিত্ব গড়লেন।