
শুক্রবার বিকেলে পাবনা সদর উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নের ঝপঝপিয়া গ্রামের পাশে সোনাপাতিল বিলের রাস্তায় মর্মান্তিক বজ্রপাতের ঘটনা ঘটেছে। শখের বশে বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে যাওয়া আটজনের দলের ছয়জন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন। হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে তারা বাড়ির দিকে ফেরার পথে এই বিপর্যয়ের শিকার হন। পাবনায় বিলে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে ছয়জনের মৃত্যু। প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিকেলে শিশু–কিশোরসহ আটজন সোনাপাতিল বিলে বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে যান। বজ্রপাতে একসঙ্গে ছয়জনের মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে এলাকা।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন গজমতিকুণ্ডা গ্রামের শাওন (২২), রুবেল হোসেন (২২), মিজান হোসেন (১২), সাজিদ ইসলাম (১০), মো. আবদুল্লাহ (১৮) এবং ইমন ইসলাম (১৪)। মারা যাওয়া ছয়জন হলেন জেলা সদরের মালঞ্চি ইউনিয়নের গজমতিকুণ্ডা গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে শাওন (২২), নলমুড়া গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে রুবেল হোসেন (২২), একই গ্রামের শাজাহান আলীর ছেলে মিজান হোসেন (১২), নাজিম উদ্দিনের ছেলে সাজিদ ইসলাম (১০), শাহাদুল ইসলামের ছেলে। 22, 12, 10, 18, 14. নিহত আবদুল্লাহর বাবা শাহাদুল ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে মুঠোফোনে বলেন, ‘বেটারা শখ করে মাছ ধরতি গেছিল।
স্থানীয় বাসিন্দারা ও পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করেছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সেগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা প্রক্রিয়াধীন। আমরা খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর ও দাফনের ব্যবস্থা করছি।
আহত দুজনকে উদ্ধার করে দ্রুত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে একজনের নাম রিপন আলী (৩২)। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানান, আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যজন বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তিনি আশঙ্কামুক্ত।
পাবনা জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম রাত নয়টা ২০ মিনিটে জানান, তিনি ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। নিহত প্রত্যেক পরিবারকে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে। প্রয়োজনে পরিস্থিতি বিবেচনায় আরও সহায়তা প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলেও তিনি জানান।
মালঞ্চি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির আহম্মেদ জানান, যারা হতাহত হয়েছেন তারা কেউ পেশাদার মৎস্যজীবী নন, বরং শখের বশে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। স্থানীয় স্বজনেরাও জানিয়েছেন, বজ্রপাতের আকস্মিক আঘাতে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত ও আহত সবাই স্থানীয় কৃষক পরিবারের সন্তান বলে নিশ্চিত করেছেন সদর উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আহমদ আলী সরকার।