1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
  4. : temp-login-BxH6QyEPU5XH7Ed :
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে কি সরিয়ে দিচ্ছেন ট্রাম্প? - আজকের কাগজ
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৪০ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
মতলব উত্তরে দেড় হাজার শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ মামুনুল হকের অবস্থান নিয়ে তিন মুরুব্বিকে চিঠি দিলেন নুরুল ইসলাম ওলীপুরী প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে কি সরিয়ে দিচ্ছেন ট্রাম্প? হিলিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধে তিন জনকে গ্রেফতার উইকহ্যাম |: প্রথম ইনিংসে কত রান করতে চায় উইন্ডিজ বিনা জামানতে ঋণ দেওয়ার নামে প্রতারণা, সতর্ক করল বাংলাদেশ ব্যাংক সীমান্তের ওপার থেকে গার্মেন্টস শিল্পে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী পুলিশ পরিদর্শক থেকে এএসপি হলেন ৬৭ কর্মকর্তা বিনা জামানতে ২০ লাখ টাকার ঋণ কর্মসূচি নিয়ে সতর্ক করল বাংলাদেশ ব্যাংক অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রথম জাহাজে সেন্টমার্টিনে ৮৩৬ পর্যটক, দ্বীপজুড়ে উৎসবের আমেজ

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে কি সরিয়ে দিচ্ছেন ট্রাম্প?

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ ৮:০৯ পিএম
শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির ভরাডুবির পর থেকেই প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের পদ নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা গুঞ্জন। ইরান যুদ্ধ নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষের কারণেই মূলত রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে হেগসেথকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই কংগ্রেসের মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র ৬০ দিন বাকি।

তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল বুধবার সাংবাদিকদের কাছে হেগসেথের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, তিনি খুব ভালো কাজ করছেন। হেগসেথকে সরিয়ে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তাঁর নেই বলেও তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন। ২০০৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ ইরাক যুদ্ধের জেরে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডোনাল্ড রামসফেল্ডকে বরখাস্ত করেছিলেন। ট্রাম্পের বর্তমান অবস্থান বুশের সেই সিদ্ধান্তের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে তাঁর টানাপোড়েনের সম্পর্ক ট্রাম্প প্রশাসনের দেড় লাখ কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা ব্যয় প্যাকেজ কংগ্রেসে পাস করানোর প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল আসার সময় টিলিস বলেন, ‘প্রতিরক্ষা খাতের প্রয়োজন ও ব্যয় প্যাকেজ কংগ্রেসে তুলে ধরার জন্য হেগসেথই সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি কি না, নির্বাচনের পর তা নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে।

যদিও প্রেসিডেন্টের প্রকাশ্য সমর্থনের পরেও দলের ভেতরে হেগসেথকে নিয়ে অস্বস্তি কাটছে না। রিপাবলিকান পার্টির বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনী পরাজয়ের কারণ পর্যালোচনার সময় হেগসেথের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হতে পারে। প্রেসিডেন্টের এক উপদেষ্টা জানিয়েছেন, যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হেগসেথ ‘ছাঁটাইয়ের’ ঝুঁকির মুখে রয়েছেন এবং এই পরাজয়ের দায় শেষ পর্যন্ত তাঁর ওপরই পড়তে পারে। হেগসেথ মার্কিন রাজনীতিতে বিতর্কিত ব্যক্তি।

হেগসেথকে ইরান যুদ্ধের অন্যতম প্রধান সমর্থক হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্প গত ২৩ মার্চ বলেছিলেন, তিনিই প্রথম ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া যাবে না বলে এই যুদ্ধের কথা বলেছিলেন। তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স প্রকাশ্যে ইরান যুদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং এর ফলেই রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন। আপনি বলেছিলেন, ‘চলুন, আমরা এটা করি।

হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য না করলেও প্রেসিডেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের ইঙ্গিত দিয়েছে। পেন্টাগন জানিয়েছে, ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত, অর্থাৎ ২০২৯ সালের ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত হেগসেথ দায়িত্ব পালনে বদ্ধপরিকর। মন্তব্য জানতে চাইলে হোয়াইট হাউস রয়টার্সকে বলেছে, ট্রাম্প প্রকাশ্যে হেগসেথ সম্পর্কে কী বলছে, আপনারা তা খেয়াল করতে পারেন।

হেগসেথের কর্মকাণ্ড ঘিরে রিপাবলিকান দলের ভেতরেও বিরোধের ছায়া রয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য টমাস ম্যাসি চলতি বছরের শুরুর দিকে তাঁর বিরুদ্ধে অভিশংসনের প্রস্তাব তুলেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে হেগসেথ ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। সিনেটর টম টিলিসও মঙ্গলবার রাতে সিবিএস নিউজকে বলেছেন, নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।

আগামী দিনগুলোতে ডেমোক্র্যাটরা পেন্টাগনের কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যাপক তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ইরান যুদ্ধ পরিচালনা, শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের অপসারণ, বিশেষ করে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যানকে সরিয়ে দেওয়া এবং ইউক্রেন নীতি বা মাদকবিরোধী অভিযানে নৌযানের ওপর হামলা—এসব বিষয় তদন্তের অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। ডেমোক্র্যাটদের মতে, কিছু সামরিক পদক্ষেপ যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে। তিনি ইরান যুদ্ধ থেকে শুরু করে সশস্ত্র বাহিনীর ‘রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার ভিত্তি’ নড়বড়ে হয়ে যাওয়ার বিষয়ে কঠোর নজরদারির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

কংগ্রেসের সদস্যদের সঙ্গে হেগসেথের ব্যক্তিগত বিরোধও চরমে পৌঁছেছে।

গত বছর ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্ক কেলিকে বিচারের মুখোমুখি করার হুমকি দিয়েছিলেন তিনি। এমনকি কেলি ও অন্য পাঁচ সামরিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ তুলেছিলেন হেগসেথ। আগামী বছর প্রতিনিধি পরিষদের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটির নেতৃত্বে আসা ডেমোক্র্যাট অ্যাডাম স্মিথও হেগসেথের কর্মকাণ্ডের ওপর কড়া নজর রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। কেলি এবং সামরিক ও গোয়েন্দা বিভাগে কাজের অভিজ্ঞতা থাকা কংগ্রেসের আরও পাঁচ ডেমোক্র্যাট সদস্য মার্কিন সেনাদের অবৈধ আদেশ পালন না করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

ক্যাপিটল হিলে হেগসেথের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সংকট তৈরি হওয়ায় তাঁকে সরিয়ে দিয়ে অন্য কাউকে নিয়োগ দেওয়ার সম্ভাবনা হোয়াইট হাউসের আলোচনায় স্থান পেয়েছে। একজন পরামর্শদাতা বলেছেন, ডেমোক্র্যাটদের তদন্ত থেকে পেন্টাগনকে বাঁচাতে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তবে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল দাবি করেছেন, হেগসেথ ট্রাম্পের কর্মসূচি বাস্তবায়নে অটল থাকবেন এবং কোনো প্রকার ‘ভুয়া তদন্তের’ কাছে মাথা নত করবেন না।

হেগসেথকে নিয়ে আরেকটি জোরালো সম্ভাবনা হলো সিনেটর মার্শা ব্ল্যাকবার্নের ছেড়ে দেওয়া আসনে তাঁকে নিয়োগ দেওয়া। টেনেসির গভর্নর হিসেবে নির্বাচিত হওয়া ব্ল্যাকবার্নের আসনটি আগামী জানুয়ারিতে শূন্য হবে। এই আসনে নিয়োগ পেলে হেগসেথকে আপাতত নির্বাচনে লড়তে হবে না, তবে ২০২৮ সালে তাঁকে পূর্ণ মেয়াদের জন্য লড়াই করতে হবে। ট্রাম্প এ বিষয়ে সরাসরি কোনো কথা না বললেও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, হেগসেথ ওই নতুন দায়িত্বে বেশ জনপ্রিয় হবেন। তবে ২০২৮ সালের নির্বাচনে আসনটি ধরে রাখতে হলে তাঁকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে। পেন্টাগনকে নতুনভাবে সাজানোর প্রচেষ্টায় সাবেক এই ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে যথেষ্ট স্বাধীনতা দিয়েছেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প ও হেগসেথের মধ্যে মতপার্থক্যের ঘটনাও ঘটেছে। গত মাসে ফোর্ট হুডে হামলাকারী নাসির হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা করেছিলেন হেগসেথ, যা ট্রাম্প পরে বাতিল করেন। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে দলীয় নেতা ও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় হেগসেথের ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই অনিশ্চিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অনেক রিপাবলিকান, ধর্মীয় নেতা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছিলেন।

এই বিভাগের আরো খবর