
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হলেও পৌরসভার বেশ কয়েকটি এলাকায় এখনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। এরই চিত্র দেখা গেছে পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ফাল্গুনকরা পূর্বপাড়া ও পশ্চিমপাড়ায়। এলাকার মানুষের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিনেও সংস্কার না হওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বাধ্য হয়ে প্রতিদিনের চলাচলের জন্য নিজেদের উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে ব্যবহার করছেন তাঁরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সংস্কারের জন্য বারবার পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে বর্ষা কিংবা স্বাভাবিক সময়ে চলাচলের ক্ষেত্রে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভার ভেতরে এমন দুরবস্থা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি করেছে।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, পৌরসভায় নিয়মিত পৌরকর, ভূমি উন্নয়ন করসহ বিভিন্ন ধরনের কর পরিশোধ করেও কেন তাঁরা ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকবেন? কর পরিশোধের ক্ষেত্রে নাগরিকদের দায়িত্ব থাকলেও সড়ক সংস্কারসহ মৌলিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার—এ প্রশ্নও তুলছেন তাঁরা।
অন্যদিকে, পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের উন্নয়ন পরিস্থিতি নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০১ সালে বাতিসা ইউনিয়ন থেকে পৌরসভায় যুক্ত হওয়ার পরও এ ওয়ার্ডের রাস্তাঘাট, পুল-কালভার্ট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রত্যাশিত মাত্রায় হয়নি। পৌরসভার অন্যান্য ওয়ার্ডে উন্নয়নমূলক কাজ দৃশ্যমান হলেও এ ওয়ার্ডের বাসিন্দারা তুলনামূলকভাবে অবহেলিত বলে অভিযোগ তাঁদের।
দক্ষিণ ফাল্গুনকরা পূর্বপাড়া ও পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দাদের দাবি, সড়কটি শুধু একটি চলাচলের পথ নয়; এটি এলাকার মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া এবং অসুস্থ রোগীদের চলাচলের ক্ষেত্রেও ভালো সড়ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে বাঁশের সাঁকোর ওপর নির্ভর করে চলাচল করা নিরাপদ ও স্থায়ী সমাধান হতে পারে না।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, চৌদ্দগ্রাম পৌর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেবে। পাশাপাশি ৬ নম্বর ওয়ার্ডের অবহেলিত সড়ক, পুল-কালভার্ট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
এখন প্রশ্ন উঠেছে—প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে চৌদ্দগ্রামের উন্নয়নের সুফল কি সব ওয়ার্ডের মানুষের কাছে সমানভাবে পৌঁছাবে, নাকি দক্ষিণ ফাল্গুনকরার বাসিন্দাদের বাঁশের সাঁকোর ওপর নির্ভর করেই দিন কাটাতে হবে?
এ বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি।