
মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন সাদমান ইসলাম। ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরিটি এসেছে ১৭ ইনিংসের দীর্ঘ অপেক্ষার পর। ব্যক্তিগত অর্জনের দিনেও সাদমানের কণ্ঠে ছিল দলের টপ অর্ডারের ব্যর্থতার রেশ। সংবাদ সম্মেলনে তিনি অকপটে স্বীকার করলেন, টপ অর্ডারের ব্যাটাররা আরও দায়িত্বশীল হলে দলীয় সংগ্রহ সাড়ে চার শ থেকে পাঁচ শ রান স্পর্শ করা সম্ভব ছিল। সাদমানের মতে, ১৫০, ১৭০ বা ২০০ রানের মতো বড় জুটি গড়তে না পারাটা দলের জন্য ভুল ছিল। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতিতে বড় ইনিংস খেলার লক্ষ্যই থাকবে তাদের। কখনো দায় স্বীকার করে নেন অকপটে, কখনো আবার হাসিমুখে দেন ব্যর্থতার ব্যাখ্যা। কিন্তু সব ছাপিয়ে আজ সংবাদ সম্মেলনে মুখ্য হয়ে উঠল তাঁর সেঞ্চুরিটাই। সাদমানের তিন অঙ্কে পৌঁছানোটা তাই পুরো দলের জন্যই স্বস্তির। ক্যারিয়ারে তৃতীয় সেঞ্চুরি পাওয়ার পর স্বস্তি পাওয়ার কথা তাঁর নিজেরও। তবে আজ দিন শেষে সাদমান দিয়েছেন আরও বড় কিছুর প্রতিশ্রুতি, ‘আমরা টপ অর্ডাররা যদি এই স্কোরটা আরেকটু বড়—১৫০, ১৭০ বা ২০০ করতে পারতাম, তাহলে হয়তো দলের রান সাড়ে চার শ বা পাঁচ শ থাকত…আমাদের ভুল হয়ে গেছে। এরপর যখন এমন পরিস্থিতি আসবে, চেষ্টা থাকবে যত বড় করা যায়।’। দেড় শ বা দুই শ তো একটু দূরের পথই, সাদমানের জন্য সেঞ্চুরির অপেক্ষাটাই একটু দীর্ঘ হয়ে গিয়েছিল। ভালো শুরু পেয়েও ইনিংস বড় করতে না পারার আক্ষেপ পোড়াচ্ছিল সাদমানকেও। আজ মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে সে কথাই বলছিলেন তিনি, ‘সব সময় চিন্তা করতাম, কেন একটা নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে আউট হয়ে যাচ্ছি।
ওপেনিং জুটির দীর্ঘদিনের খরা নিয়ে সাদমান বেশ সচেতন।
গত ৪ বছরে বাংলাদেশ একটি মাত্র শতরানের উদ্বোধনী জুটি পেয়েছে, যা ২০২২ সালে ভারতের বিপক্ষে গড়েছিলেন জাকির হাসান ও নাজমুল হোসেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত তিন বছরে টেস্ট ওপেনারদের রান সংগ্রাহকের তালিকায় সাদমান আছেন ৭ নম্বরে। এই সময়ে ৮টি অর্ধশতক পেলেও সেঞ্চুরির দেখা মিলেছিল মাত্র একটি। নিজের ব্যাটিং দুর্বলতা নিয়ে সাদমান জানান, ফিটনেস ও কৌশলে উন্নতির জন্য গত কয়েক দিনে তিনি আলাদাভাবে কাজ করেছেন। ওপেনিংয়ে জুটি গড়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সতীর্থদের সঙ্গে এখন নিয়মিত আলোচনা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। মধ্যাহ্নভোজের আগেই ৭ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ কীভাবে প্রথম ইনিংসে অলআউট হয়ে গেল, সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে সাদমান ইসলাম পাশে দাঁড়ালেন সতীর্থদের। ওপেনিং নিয়ে কয়েক বছর ধরেই রীতিমতো দুর্ভোগ পোহাচ্ছে বাংলাদেশ দল। বিষয়টা নিয়ে নিজে ভেবেছেন, পথ খুঁজেছেন এ থেকে বেরিয়ে আসার। কিছুদিন ধরে এটা নিয়ে অনেক কাজ করেছি।
মিরপুর টেস্ট এখন বেশ সমানে সমান অবস্থায় রয়েছে। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস ২৭২ রানে শেষ হওয়ার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ এখনো ১৩৮ রানে পিছিয়ে আছে। ক্যারিবীয়দের শুরুটা ভালো হলেও দিনের শেষভাগে আলোক-স্বল্পতার আগে স্পিনারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ঘুরে দাঁড়ায় স্বাগতিকরা। সাদমান আশা প্রকাশ করেছেন, মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম আজ সকালে দ্রুত বাকি উইকেটগুলো তুলে নিতে সক্ষম হবেন। ৬ উইকেট হাতে রেখে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ২৭২ রানের চেয়ে এখনো ১৩৮ রানে পিছিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
অন্যদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওপেনার জন ক্যাম্পবেল ম্যাচটিকে এখনো ভারসাম্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন। তিনি জানিয়েছেন, তাদের ব্যাটিং লাইনআপ আরও এক বা দুটি বড় জুটি গড়তে পারলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া সম্ভব। স্পিনারদের ঘূর্ণিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং লাইনআপ আজ কতটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে, তা-ই এখন দেখার বিষয়।