1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
  4. : temp-login-BxH6QyEPU5XH7Ed :
বার্ষিক ৯ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্যে মুখর খুলনার প্রাচীন বড় বাজার - আজকের কাগজ
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৩৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ইসলামপন্থি ও কমিউনিস্টদের নিয়ন্ত্রণে: টেড ক্রুজ ইউটিউব দেখে জাল টাকা তৈরির কারখানা: হায়দরাবাদে আটক ৪ বার্ষিক ৯ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্যে মুখর খুলনার প্রাচীন বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের জয়ে ট্রাম্পের চ্যালেঞ্জ যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে জয়ী গাজায় চিকিৎসাসেবা দেওয়া সেই চিকিৎসক ভারতের রাজত্বে ভাগ বসাবে কে: সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ইয়েমেনে সৌদি জোটের হামলায় ২০ জনের প্রাণহানি: হুথিদের দাবি কিশোরগঞ্জে সাবেক এমপি আখতারুজ্জামানের ছেলেকে আঘাত, ঢাকায় স্থানান্তর ইরান যুদ্ধে নতুন অর্থ বন্ধের দাবি ডেমোক্র্যাট সিনেটরের যুক্তরাষ্ট্রে আসছে দুই বছরের তীব্র সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক সংকট

বার্ষিক ৯ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্যে মুখর খুলনার প্রাচীন বড় বাজার

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ ১১:০৯ এএম
শেয়ার করুন

ভোরের আলো ফুটতেই খুলনার ভৈরব নদের তীরঘেঁষা বড় বাজারে শুরু হয়ে যায় ব্যস্ততা। ঠেলাগাড়ি, ভ্যান আর রিকশার ভিড়ে ওয়েস্ট মেকট রোডের মতো সরু গলির অর্ধেকের বেশিই চলে যায় মালামালের দখলে। কুলিদের হাঁকডাক আর ক্রেতা-বিক্রেতার কেনাবেচায় দিনভর মুখরিত থাকে এই এলাকা। একসময় নদী ও রেলে পণ্য পরিবহন বেশি হলেও এখন ট্রাকেই সিংহভাগ মালামাল আনা-নেওয়া করা হয়। পরিবহন কাঠামোর পরিবর্তন সত্ত্বেও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সবচেয়ে বড় এই প্রাচীন পাইকারি মোকাম এখনো আঞ্চলিক বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে টিকে রয়েছে। ঠেলাগাড়ি, ভ্যান আর রিকশার জটলায় ওয়েস্ট মেকট রোডের মতো সরু সড়কগুলোর অর্ধেকটাই দখল হয়ে থাকে সারি সারি দোকানের মালপত্রে। একসময় ভৈরব নদের পাড়ে যেখানে দিনরাত মালবাহী নৌপরিবহনের সারি লেগে থাকত, সেখানে এখন তা হাতে গোনা। রেলের বগি ভর্তি করে পণ্য আসার পুরোনো দৃশ্যও প্রায় হারিয়ে যাচ্ছে। পরিবহন আর যোগাযোগব্যবস্থার এই বাঁকবদলের দৃশ্যপটই বলে দেয়, এ অঞ্চলের বাণিজ্যের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র—ঐতিহ্যবাহী ‘বড় বাজার’।

বড় বাজারের মূল বাণিজ্য গড়ে উঠেছে চাল ও মসলাকে কেন্দ্র করে। খুলনার ধান-চাল বণিক সমিতি এবং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি মো. মুনীর আহমেদ জানান, ব্যবসার ধরন কিছুটা বদলালেও এখনো বাজারের মোট বাণিজ্যের প্রায় অর্ধেকই চাল ও মসলাপণ্যের দখলে। কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, শরীয়তপুর, টাঙ্গাইল, রংপুর ও রাজশাহীসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা চাল এই বাজারে বিক্রি হয়। দিনাজপুর চাল ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী মো. ফারুক শেখ জানান, বর্তমানে চিকন চাল ও ২৮ জাতের চালের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। ওয়েস্ট মেকট রোডে থাকা ৫০ থেকে ৬০টি চালের পাইকারি মোকাম থেকে পুরো অঞ্চলের বাজারে চাল সরবরাহ করা হয়। পাশাপাশি অন্য জাতের চালও প্রচুর বিক্রি হয়।

অন্যদিকে ভৈরব স্ট্র্যান্ড রোডের ‘কাঁচাপট্টি’ হিসেবে পরিচিত আড়তগুলোতে হলুদ, মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন ও আদাসহ বিভিন্ন মসলা বিক্রি হয়। তিন দশকের বেশি সময় ধরে সেখানে ব্যবসা করা মেসার্স নিউ মেহেদী বাণিজ্য ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী শেখ মো. আবুল হাসান জানান, কাঁচাপট্টিতে শতাধিক পাইকারি দোকান রয়েছে এবং মরশুমে তারা ফলের ব্যবসাও পরিচালনা করেন। পাশেই অবস্থিত মসলাপট্টি থেকে প্রক্রিয়াজাত মসলা সরবরাহ করা হয় আশপাশের জেলাগুলোতে। চাল ও মসলা ছাড়াও বাজারটিতে রয়েছে ফলমূল, প্লাস্টিক সামগ্রী, পোশাক, প্রসাধনী, সবজি ও অলংকারের বহু প্রতিষ্ঠান। তিনি বলেন, ‘এখানে পাইকারি কাঁচা মসলার শতাধিক দোকান রয়েছে।

খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) তথ্য অনুযায়ী, একসময় বাজারে মাসে এক হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হতো, যা এখন কমে ৬৫০ থেকে ৭৫০ কোটি টাকাই নেমেছে। তবে বর্তমানেও প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা এবং বছরে ৯ হাজার কোটি টাকার বেশি বাণিজ্য হয়। কেসিসির ট্রেড লাইসেন্স শাখার সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট শেখ হুমায়ুন কবীর জানান, বাজারে অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৩,৬৫০টি। এর পাশাপাশি ৪৬০ থেকে ৪৭০টি দৈনিক টোলভিত্তিক দোকান এবং প্রায় এক হাজার ভাসমান হকারসহ মোট পাঁচ হাজারের বেশি ব্যবসায়ী যুক্ত আছেন। সরকারি রাজস্ব হিসেবে নিবন্ধিত দোকান থেকে বছরে আসে ৬ কোটি টাকার বেশি। কেসিসির বাজার সুপারিনটেনডেন্ট শেখ শফিকুল হাসান দিদার জানান, অস্থায়ী দোকানগুলো থেকে দৈনিক টোলের মাধ্যমে বছরে অতিরিক্ত ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়।

এ বিশাল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে বাজারের চারপাশে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের ৩৩টি শাখা গড়ে উঠেছে। ব্র্যাক ব্যাংকের বড় বাজার শাখার ব্যবস্থাপক এস এম আশরাফুল ইসলাম জানান, শুধু তাঁদের শাখা থেকেই ৭৭৪টি প্রতিষ্ঠানকে বছরে গড়ে ৩০০ কোটি টাকার মতো ঋণ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। নদীভাঙন ও জমি অধিগ্রহণের ফলে বাজারের আয়তন কিছুটা ছোট হলেও এখন পাইকারির পাশাপাশি খুচরা কেনাবেচাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

দুই দশক আগেও পুরো অঞ্চলের ভোগ্যপণ্যের সিংহভাগ সরবরাহ এই বাজার থেকে হলেও বর্তমানে ব্যবসার বিকেন্দ্রীকরণ ঘটেছে। ব্যবসায়ী নেতা মুনীর আহমেদ উল্লেখ করেন, প্রতিষ্ঠান বাড়লেও অবকাঠামোগত কোনো উন্নয়ন হয়নি। অত্যন্ত সরু রাস্তার কারণে ভারী যানবাহন বাজারে প্রবেশ করতে পারে না, ফলে পণ্য খালাসে অতিরিক্ত পরিবহন খরচ গুনতে হচ্ছে। এ ছাড়া ভৈরব নদ থেকে মালপত্র তোলার বাড়তি খরচের কারণে অনেক ব্যবসায়ী অন্যত্রে ব্যবসা সরিয়ে নিচ্ছেন। এসব সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও হাজারো ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও আড়তদারের রুটি-রুজির প্রধান উৎস হিসেবে প্রাচীন এই বাজার এখনো সচল রয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলেন, ২০ বছর আগেও এ অঞ্চলের নিত্যপ্রয়োজনীয় ও ভোগ্যপণ্যের ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশই সরবরাহ হতো এই বাজার থেকে। এমন নানা সমস্যায় বাড়তি ব্যয়ের কারণে অনেক ব্যবসায়ী অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়া ব্যবসার আধুনিক ধরন, পরিবহনব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ও অবকাঠামোগত সমস্যায় বাজারটির পুরোনো প্রভাব ও প্রতাপকে অনেকটাই ম্লান করে দিয়েছে। তবু হাজারো ব্যবসায়ী, শ্রমিক, কুলি ও আড়তদারের দৈনন্দিন জীবিকা এই বাজারকে ঘিরেই হচ্ছে।

এই বিভাগের আরো খবর