1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
বিশ্বসেরা ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় রুয়েটের ১৫ শিক্ষক-গবেষক - আজকের কাগজ
শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
জাতিসংঘ নির্বাচনে বাংলাদেশের সমর্থন চাইলো যুক্তরাষ্ট্র রূপনগর থানায় যোগদানের পর নানা কর্মকান্ডে বিতর্কিত ওসি নোমান হোসেনকে বদলি সিএনজি চলাচলে বাধার অভিযোগ, কুড়িগ্রামে সড়ক অবরোধ বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত অনুমোদন পেল রূপপুরের প্রথম ইউনিট পুলিশে রদবদল, ২ ওসিসহ ৮ পরিদর্শকে বদলি দুই মাসের মধ্যে এক হাজার খেলার মাঠ তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর প্রশিক্ষণ নিতে জাপান যাচ্ছেন ২৩ জন বিচারক ও আইনজীবী ইউপি নির্বাচনের রোডম্যাপ আসছে ১২ অক্টোবর ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছেই, অক্টোবরের সাত দিনেই ৪৯ মৃত্যু সংগঠনের নীতি-আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বুড়িচংয়ে যুবদল নেতা বহিষ্কার

বিশ্বসেরা ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় রুয়েটের ১৫ শিক্ষক-গবেষক

রুয়েট প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬ ৭:৫৪ পিএম
শেয়ার করুন

বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পেয়েছেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ১৫ জন শিক্ষক-গবেষক। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও নেদারল্যান্ডস ভিত্তিক প্রকাশনা সংস্থা এলসেভিয়ারের প্রকাশিত ২০২৬ সালের একক বছরের গবেষণার ভিত্তিতে তৈরি তালিকায় তাদের নাম উঠে এসেছে। এবছর বাংলাদেশের ৮৮টি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৩৪৭ জন গবেষক এ তালিকায় স্থান পেয়েছেন।

প্রকাশিত তালিকায় দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রুয়েটের অবস্থান পঞ্চম। এলসেভিয়ারের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী গবেষক তালিকায় রুয়েট সংশ্লিষ্টদের কয়েকজন বর্তমানে বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত। তালিকায় থাকা গবেষকদের প্রকাশিত গবেষণাপত্র, সাইটেশন, এইচ-ইনডেক্স, গবেষণার ধারাবাহিকতা এবং সহ-লেখকদের প্রভাবের মতো সূচক বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

তালিকাভুক্ত রুয়েটের ১৫জন হলেন—মহিউদ্দিন আহমেদ, ফয়সাল রহমান বাদল, সজল কুমার দাস, মো. আহসান হাবিব, মো. আল মেহেদী হাসান, মো. রবিউল হাসান, মোহাম্মদ উজ্জল হোসেন জোয়ার্দ্দার, আবদুল্লাহ আল কাফি, আবদুল খালেক, মো. গোলাম কিবরিয়া, মো. আসলাম মোল্লা, মনজুর মোরশেদ, মো. নাহিদুজ্জামান, মো. মাসুদ রানা ও তুষার কান্তি রায়।

তাদের মধ্যে মহিউদ্দিন আহমেদ অস্ট্রেলিয়ার এডিথ কোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়, মো. নাহিদুজ্জামান অস্ট্রেলিয়ার আরএমআইটি বিশ্ববিদ্যালয়, আবদুল্লাহ আল কাফি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট অস্টিন, মো. মাসুদ রানা ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি এবং তুষার কান্তি রায় অস্ট্রেলিয়ার ম্যাককুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত বলে জানা যায়। অন্যদিকে বাকিদের অনেকেই রুয়েটে অবস্থান করছেন বলে জানা যায়।

গবেষণার ক্ষেত্রের দিক থেকে রুয়েটের এসব গবেষকদের কাজ বেশ বৈচিত্র্যময়। তারা নবায়নযোগ্য শক্তি, জ্বালানি ব্যবস্থাপনা, রোবোটিকস, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, যোগাযোগপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্য বিশ্লেষণ, ন্যানোপ্রযুক্তি এবং সামাজিক বিজ্ঞানের পরিসংখ্যান ভিত্তিক বিষয়ে কাজ করছেন।

মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ড. সজল কুমার দাস কাজ করছেন রোবোটিকস, অরৈখিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং মেকাট্রনিকসের বিভিন্ন প্রয়োগ নিয়ে। এসব ক্ষেত্রে যন্ত্র ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়ানো এবং নিয়ন্ত্রণপ্রযুক্তির উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থা কেন্দ্রিক গবেষণায় রয়েছেন তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাসুদ রানা।

ড. মো. মাসুদ রানা গবেষণার ক্ষেত্রে সংকেত প্রক্রিয়াকরণ, স্মার্ট গ্রিড ও নবায়নযোগ্য শক্তির নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিয়েও কাজ করছেন। যোগাযোগ প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্সের ক্ষেত্রেও রুয়েটের গবেষকদের কাজ রয়েছে। ড. মো. নাহিদুজ্জামানের গবেষণার বিষয় বেতার যোগাযোগ, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) ও সংকেত প্রক্রিয়াকরণ। ড. মো. রবিউল হাসান কাজ করেন অপটিক্যাল ফাইবার যোগাযোগ ও ফটোনিকস নিয়ে। তুষার কান্তি রায়ের গবেষণার ক্ষেত্র বেতার নেটওয়ার্ক এবং পঞ্চম ও ষষ্ঠ প্রজন্মের (৫জি ও ৬জি) যোগাযোগ ব্যবস্থা।

কম্পিউটার বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে ড. আবদুল্লাহ আল কাফির গবেষণার বিষয় কম্পিউটার বিজ্ঞান, তথ্য বিশ্লেষণ এবং যন্ত্রশিক্ষার প্রয়োগ। অন্যদিকে ড. মো. আল মেহেদী হাসানের গবেষণার ক্ষেত্র পদার্থবিজ্ঞান ও ন্যানো প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট বিষয়। মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞানেও গবেষণা করছেন রুয়েটের শিক্ষকরা। ড. মো. আহসান হাবিবের গবেষণার ক্ষেত্র ফলিত অর্থনীতি এবং সামাজিক বিজ্ঞানের পরিসংখ্যানভিত্তিক গবেষণা।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও এলসেভিয়ারের তালিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের একক বছরের গবেষণার ভিত্তিতে বাংলাদেশ থেকে ৩৪৭ জন গবেষক স্থান পেয়েছেন। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা ছিল ২৮৬। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে তালিকায় বাংলাদেশের গবেষকের সংখ্যা বেড়েছে ৬১ জন বা ২১ দশমিক ৩ শতাংশ। গবেষকের সংখ্যার হিসাবে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ৪৫তম, যা আগের বছরের তুলনায় এক ধাপ এগিয়েছে।

একই সময়ে তালিকায় বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বেড়েছে। ২০২৫ সালে ৭৪টি প্রতিষ্ঠান থেকে গবেষকেরা তালিকায় স্থান পেয়েছিলেন। ২০২৬ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৮টিতে অর্থাৎ এক বছরে বৃদ্ধি ১৪টি (১৮ দশমিক ৯ শতাংশ)।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানভিত্তিক তালিকায় প্রথম অবস্থানে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; প্রতিষ্ঠানটির ২২ জন শিক্ষক ও গবেষক তালিকায় স্থান পেয়েছেন। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশে (আইসিডিডিআর,বি) রয়েছেন ২০ জন গবেষক। তৃতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং চতুর্থ অবস্থানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়—উভয় প্রতিষ্ঠানের ১৬ জন করে গবেষক তালিকায় রয়েছেন। পঞ্চম অবস্থানে যৌথভাবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এবং রুয়েটের ১৫ জন করে গবেষক স্থান পেয়েছেন।

এছাড়াও ষষ্ঠ অবস্থানে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১ জন গবেষক রয়েছেন। শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ও গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জন করে এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েরও ১০ জন গবেষক তালিকায় স্থান পেয়েছেন।

বিশ্বসেরা গবেষকদের এ তালিকায় রুয়েটের বিজ্ঞানীদের অন্তর্ভুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষণা কার্যক্রমের আন্তর্জাতিক পরিচিতি তুলে ধরছে। জ্বালানি, প্রকৌশল, যোগাযোগপ্রযুক্তি, কম্পিউটারবিজ্ঞান ও সামাজিক বিজ্ঞানের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁদের গবেষণা দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার পরিসরকে আরও বিস্তৃত করার সম্ভাবনা তৈরি করছে।

এই বিভাগের আরো খবর