
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে মাদককারবারিদের বিরুদ্ধে মামলা করে চরম নিরাপত্তাহীনতায় পালিয়ে বেড়াচ্ছে একটি হতদরিদ্র পরিবার। মামলা তুলে নিতে হুমকি-ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে চায়ের দোকান বন্ধ করে আত্মগোপনে রয়েছেন বাদী সাদেক আলী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে তাঁদের। অর্থের অভাবে আহত ছেলের চিকিৎসাও করাতে পারছেন না তাঁরা।
ঘটনাটি উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী সন্ধ্যাকুড়া গ্রামের। পরিবারটির দাবি, গত ৪ সেপ্টেম্বরের পর থেকে তাঁরা বাড়িতে থাকতে পারছেন না।
সাদেক আলীর অভিযোগ, ২০২৫ সালের ২৫ মে রাতে ঝিনাইগাতী থানা পুলিশ সন্ধ্যাকুড়া গ্রামের রাসেলের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক উদ্ধার করে। এরপর পুলিশকে মাদকের তথ্য তাঁর ছেলে হাবিবুর রহমান (২০) দিয়েছেন—এমন সন্দেহে পরদিন ২৬ মে বিকেলে ১০-১৫ জন মাদককারবারি তাঁকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে লোহার রড ও লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করে। এতে হাবিবুর গুরুতর আহত হন।
পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় হাবিবুরের ভগ্নিপতি শেখ ফরিদ বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দেন। তবে পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করেছে বলে পরিবারের অভিযোগ। আর্থিক সংকটের কারণে আদালতেও যেতে পারেননি তাঁরা। পরে ঘটনার প্রায় তিন মাস পর ২০২৫ সালের ১৭ আগস্ট থানায় মামলাটি গ্রহণ করা হয়।
সাদেক আলীর দাবি, মামলা হওয়ার পর থেকেই আসামিরা মামলা তুলে নিতে তাঁকে ও পরিবারের সদস্যদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৪ সেপ্টেম্বর হাবিবুরকে চুরির অপবাদ দিয়ে একটি ঘরে তুলে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করা হয়। তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা চলে যায়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় সাদেক আলী বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। তবে অভিযোগ দেওয়ার ১১ দিন পরও তা মামলা হিসেবে নেওয়া হয়নি এবং কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে পরিবারের দাবি।
সাদেক আলী বলেন, “আমি গরিব মানুষ। চায়ের দোকান করে সংসার চালাই। এখন ভয়ে দোকান খুলতে পারছি না। বাড়িতেও থাকতে পারছি না। ছেলের চিকিৎসার টাকা নেই। মামলা করে যদি এভাবে পালিয়ে থাকতে হয়, তাহলে আমরা কোথায় যাব?”
পরিবারটির অভিযোগ, একদিকে অভিযুক্তদের হুমকি, অন্যদিকে আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
এ বিষয়ে শেরপুরের পুলিশ সুপার একেএম জহিরুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে জানান।