1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
সাপাহারের ৮৩ স্কুলে ‘নামেই ইন্টারনেট’, তিন মাস ধরে অচল সেবা - আজকের কাগজ
শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
জাতিসংঘ নির্বাচনে বাংলাদেশের সমর্থন চাইলো যুক্তরাষ্ট্র রূপনগর থানায় যোগদানের পর নানা কর্মকান্ডে বিতর্কিত ওসি নোমান হোসেনকে বদলি সিএনজি চলাচলে বাধার অভিযোগ, কুড়িগ্রামে সড়ক অবরোধ বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত অনুমোদন পেল রূপপুরের প্রথম ইউনিট পুলিশে রদবদল, ২ ওসিসহ ৮ পরিদর্শকে বদলি দুই মাসের মধ্যে এক হাজার খেলার মাঠ তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর প্রশিক্ষণ নিতে জাপান যাচ্ছেন ২৩ জন বিচারক ও আইনজীবী ইউপি নির্বাচনের রোডম্যাপ আসছে ১২ অক্টোবর ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছেই, অক্টোবরের সাত দিনেই ৪৯ মৃত্যু সংগঠনের নীতি-আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বুড়িচংয়ে যুবদল নেতা বহিষ্কার

সাপাহারের ৮৩ স্কুলে ‘নামেই ইন্টারনেট’, তিন মাস ধরে অচল সেবা

তোফায়েল আহমেদ
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬ ৭:৪৯ পিএম
শেয়ার করুন

নামে ইন্টারনেট সংযোগ আছে, কিন্তু কাজে নেই। ফাইবার অপটিক্যাল ক্যাবল বসানো হয়েছে, সংযোগও দেওয়া হয়েছে; অথচ সেই সংযোগ দিয়ে অনলাইনে ঢোকাই যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে নওগাঁর সাপাহার উপজেলার ৮৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় তিন মাস ধরে ব্যাহত হচ্ছে অনলাইন হাজিরা, দাপ্তরিক যোগাযোগসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম। বাধ্য হয়ে শিক্ষকদের কেউ নিজের মোবাইলের ডাটা কিনে, আবার কোনো কোনো বিদ্যালয় বাড়তি টাকা খরচ করে স্থানীয় ইন্টারনেট সংযোগ নিয়ে কাজ চালাচ্ছে।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের ‘ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন (ইডিসি)-১ম সংশোধিত’ প্রকল্পের আওতায় সাপাহারের এসব বিদ্যালয়ে ফাইবার অপটিক্যাল ক্যাবলের মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হয়। সংযোগ চালুর পর কিছুদিন স্বাভাবিকভাবে সেবা পাওয়া গেলেও পরে তা কার্যত অচল হয়ে পড়ে বলে অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

শিক্ষকদের ভাষ্য, বর্তমানে বিদ্যালয়ের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজই অনলাইননির্ভর। ফলে ইন্টারনেট সংযোগ অচল থাকায় শুধু যোগাযোগের সমস্যা নয়, প্রতিদিনের দাপ্তরিক কাজেও তৈরি হচ্ছে বাড়তি ভোগান্তি। অনলাইন হাজিরা পাঠানো, বিভিন্ন তথ্য ও প্রতিবেদন জমা দেওয়া, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা গ্রহণসহ শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট নানা কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদের।

সাপাহার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিরুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনায় ইন্টারনেট এখন আর বিলাসিতা নয়, এটি অপরিহার্য। কিন্তু সংযোগ থাকলেও প্রায় তিন মাস ধরে সেটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না বাধ্য হয়ে নতুন করে স্থানীয় ইন্টারনেট সংযোগ নিয়ে দাপ্তরিক কাজ চালাতে হচ্ছে।”

উপজেলার দমদমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি জাকারিয়া আলম বলেন, ইন্টারনেট সংযোগ চালু হওয়ার পর বিদ্যালয়ের অফিসিয়াল কাজ অনেক সহজ ও দ্রুত হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংযোগ অচল থাকায় সেই সুবিধা আর পাওয়া যাচ্ছে না।

একই ধরনের অভিযোগ করেছেন রামাশ্রম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ, ওড়ুনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা।
শিক্ষক শামীম আহমেদ বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়মিত অনলাইনে হাজিরা দিতে হয়। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সেই হাজিরা পাঠানোর প্রয়োজন হলেও বিদ্যালয়ের ইন্টারনেট অচল থাকায় ব্যক্তিগত মোবাইল ডাটা ব্যবহার করতে হচ্ছে।

শিক্ষকদের অভিযোগ, সমস্যাটি শুধু অনলাইন হাজিরাতেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিদিন বিভিন্ন দাপ্তরিক তথ্য আদান-প্রদান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা গ্রহণ, অনলাইনভিত্তিক প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাজ করতে ইন্টারনেটের প্রয়োজন হয়। বিদ্যালয়ের সরকারি সংযোগ অচল থাকায় এসব কাজ করতে গিয়ে শিক্ষকরা যেমন সময় হারাচ্ছেন, তেমনি নিজের পকেটের টাকাও খরচ করছেন। কোনো কোনো বিদ্যালয় পরিস্থিতি সামাল দিতে নিজেদের উদ্যোগে স্থানীয় ইন্টারনেট সংযোগ নিয়েছে। এতে সরকারি অর্থে স্থাপন করা সংযোগ থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয়গুলোকে বিকল্প ব্যবস্থার জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

বিদ্যালয়গুলোতে উচ্চগতির ইন্টারনেট নিশ্চিত করতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মধ্যে ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে End User Connectivity-এর মাধ্যমে উচ্চগতির ২০ এমবিপিএস ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। সংযোগ স্থাপনের পর মাসিক ইন্টারনেট বিল বিদ্যালয়গুলো বহন করবে। পাশাপাশি স্থাপিত সংযোগ ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা এবং সেবার মান নিশ্চিত করার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে।
কিন্তু সাপাহারের ৮৩টি বিদ্যালয়ে সংযোগ থাকার পরও দীর্ঘ সময় ধরে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে না পারায় প্রকল্পটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষকরা। তাদের প্রশ্ন—সরকারি অর্থ ব্যয়ে অবকাঠামো তৈরি ও সংযোগ দেওয়ার পর যদি সেটিই সচল না থাকে, তাহলে সেই সুবিধার সুফল বিদ্যালয়গুলো পাবে কীভাবে

সাপাহার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ওয়াহেদুল্লাহ প্রামাণিক বলেন, প্রায় তিন মাস ধরে বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে ইন্টারনেট সমস্যার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের একাধিকবার জানানো হলেও এখনো কার্যকর সমাধান হয়নি। দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে বিষয়টি জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন করা হবে।

অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইটি ইঞ্জিনিয়ার শওকত হোসেন সুইটের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমাদের সার্ভারে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। যার কারণে কিছু সমস্যা হচ্ছে। আমরা দ্রুত এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি। তবে তিন মাস ধরে সমস্যা—এটি সঠিক নয়।”

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, End User Connectivity কার্যক্রমের আওতায় স্থাপিত নেটওয়ার্কের কার্যকারিতা ও সেবার মান বজায় রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দায়িত্ব নির্ধারিত রয়েছে। সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরের তারিখ থেকে তিন বছর কার্যকর থাকার কথা।

শিক্ষকদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকা সরকারি ইন্টারনেট সংযোগ দ্রুত সচল করা হবে। এতে একদিকে বিদ্যালয়ের অনলাইন ও দাপ্তরিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে, অন্যদিকে ব্যক্তিগত অর্থ খরচ করে ইন্টারনেট ব্যবহারের বাড়তি চাপ থেকেও মুক্তি পাবেন শিক্ষকরা।

তাদের মতে, সংযোগ শুধু স্থাপন করলেই হবে না—সেটি নিয়মিত সচল রাখার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।

এই বিভাগের আরো খবর