
মবের মুখে জোরপূর্বক পদত্যাগ করতে বাধ্য হওয়া রাজশাহীর বাগমারার ভবানীগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হাতেম আলী প্রায় ২৭ মাস পর পুনরায় নিজ দপ্তরে ফিরেছেন। আদালত, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সমন্বিত নির্দেশনায় মঙ্গলবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ২০১৮ সালে কলেজটি জাতীয়করণের পর থেকেই তিনি অধ্যক্ষের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। ২০২৪ সালে ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের পর মবের শিকার হন হাতেম আলী। আত্তীকরণ হয়ে প্রতিষ্ঠানটি সরকারি হলে তিনিই অধ্যক্ষ থাকেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট, যখন উত্তাল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে একদল মানুষ কলেজে মব তৈরি করে হাতেম আলীকে পদত্যাগে বাধ্য করে। ওই সময় তাঁর কাছ থেকে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল, যা সারাদেশে আলোচনার জন্ম দেয়। পরবর্তী ২৬ মাস ১৩ দিন তিনি দায়িত্বের বাইরে ছিলেন। বিভিন্ন সময় দায়িত্ব পুনরুদ্ধারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন জানালেও আইনি জটিলতায় তা সম্ভব হয়নি। এই দীর্ঘ সময়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষরাই কলেজটির রুটিন প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। ওই সময়ে ঘটনাটি দেশব্যাপী আলোচিত হয়।
অবশেষে গত ১৩ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ হাতেম আলীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে। এরপর ২৯ অক্টোবর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তরের চিঠি জারি করা হয়। অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়ায় এবং মন্ত্রণালয়ের নির্দেশের আলোকে অবশেষে তিনি চেয়ারে ফিরলেন।
মঙ্গলবার সকালে কলেজে পৌঁছালে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেন। এ সময় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকা বেলাল হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন। হাতেম আলীর অনুপস্থিতিতে কলেজ পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করা অন্য দুই শিক্ষক হলেন আবদুস সাত্তার সরদার ও রমজান আলী।
পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণ করে হাতেম আলী বলেন, অতীতে মব সৃষ্টি করে অন্যায়ভাবে আমাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছিল। এখন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী আমি ফিরেছি। আমি বিশ্বাস করি, কলেজের সকল শিক্ষক ও কর্মচারীদের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখা সম্ভব হবে। আদালতের নির্দেশনা থাকার পরও ফেরা সম্ভব হয়নি। এখন থেকে আবারও কলেজের সুনাম অক্ষুণ্ন রেখে সব শিক্ষকের সহযোগিতায় লেখাপড়ার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করে যাব।’।