
‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর ৭৩তম ধাপে দখলদার ইসরাইলের একাধিক অবস্থান লক্ষ্য করে প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এ অভিযানে দুই শতাধিক ইসরাইলি দখলদার হতাহত হয়েছে বলে দাবি তেহরানের ।
রোববার আইআরজিসির এক বিবৃতির বরাতে তেহরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম পার্সটুডে জানিয়েছে, “ইয়া হায়দার (আ.)” কোডনামে এই অভিযান চালানো হয়। এতে ইসরাইলের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে ব্যাপক হামলা করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দক্ষিণাঞ্চলের আরাদ, দিমোনা, ইলাত, বীরশেবা এবং কিরিয়াত গাত—এসব এলাকায় সামরিক ও নিরাপত্তা স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ায় টার্গেটগুলোতে আরও নির্ভুলভাবে আঘাত হানা হয়েছে।
একইসঙ্গে পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি—আলি আল-সালেম, আল মিনহাদ ও আল দাফরা—এসব স্থানেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
প্রাথমিক মাঠ-তথ্য অনুযায়ী, হামলার প্রথম দিকেই ইসরাইলে ২০০-এর বেশি নিহত ও আহতের খবর পাওয়া গেছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ওপর চাপ দিচ্ছে, যাতে ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের তথ্য প্রকাশ না পায়।পর্যবেক্ষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে এবং যুদ্ধের সমীকরণ নতুন দিকে যাচ্ছে। কেউ কেউ মনে করছেন, ইসরাইলের প্রতিরক্ষা নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবফ বলেছেন, যদি ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠী দিমোনার মতো অত্যন্ত সুরক্ষিত এলাকাকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে রক্ষা করতে না পারে, তবে তা হবে অভিযানগত দিক থেকে যুদ্ধের এক নতুন পর্যায়ে প্রবেশের ইঙ্গিত অর্থাৎ ইসরাইলের আকাশ অরক্ষিত। ফলস্বরূপ, মনে হচ্ছে ইরানের পক্ষ থেকে পরবর্তী পূর্ব-পরিকল্পিত পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের সময় এসে গেছে।