1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
  4. : temp-login-BxH6QyEPU5XH7Ed :
নতুন শিক্ষাক্রমে তৃতীয় ভাষা: বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ ও করণীয় - আজকের কাগজ
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:১৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
মতলব উত্তরে দেড় হাজার শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ মামুনুল হকের অবস্থান নিয়ে তিন মুরুব্বিকে চিঠি দিলেন নুরুল ইসলাম ওলীপুরী প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে কি সরিয়ে দিচ্ছেন ট্রাম্প? হিলিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধে তিন জনকে গ্রেফতার উইকহ্যাম |: প্রথম ইনিংসে কত রান করতে চায় উইন্ডিজ বিনা জামানতে ঋণ দেওয়ার নামে প্রতারণা, সতর্ক করল বাংলাদেশ ব্যাংক সীমান্তের ওপার থেকে গার্মেন্টস শিল্পে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী পুলিশ পরিদর্শক থেকে এএসপি হলেন ৬৭ কর্মকর্তা বিনা জামানতে ২০ লাখ টাকার ঋণ কর্মসূচি নিয়ে সতর্ক করল বাংলাদেশ ব্যাংক অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রথম জাহাজে সেন্টমার্টিনে ৮৩৬ পর্যটক, দ্বীপজুড়ে উৎসবের আমেজ

নতুন শিক্ষাক্রমে তৃতীয় ভাষা: বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ ও করণীয়

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ৫:১২ পিএম
শেয়ার করুন

নতুন শিক্ষাক্রমে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি বিদেশি ভাষা যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে এই উদ্যোগ বেশ সময়োপযোগী। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা শিক্ষাকেন্দ্র চালুর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। আগে এই লক্ষ্যমাত্রা ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে তা বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্কুলপর্যায়েও এই ভাষা চালুর চিন্তা চলছে। আগে ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা শিক্ষাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছিল। তবে বাস্তবায়নের প্রস্তুতি কতটা, সেটিই বিবেচনার বিষয়। কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে, কেউ কারিগরি শিক্ষা নেবে, কেউ দেশে কাজ করবে, কেউ বিদেশে যাবে।

প্রস্তাবিত আটটি ভাষার মধ্যে রয়েছে আরবি, চীনা, জাপানি, কোরীয়, ফরাসি, জার্মান, স্প্যানিশ ও ইতালীয়। এসব ভাষা শিখলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যোগাযোগ ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির নতুন দুয়ার খুলতে পারে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ভাষা শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে তোলা যতটা সহজ, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে সেই সুযোগ তৈরি করা ততটাই জটিল। ‘রেমিট্যান্সের ভাষা’ আরবি, তবু প্রশিক্ষণে এত অবহেলা কেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থাও বিবেচনায় নিতে হবে।

শিক্ষার এই ব্যাপক প্রসারের পথে সবচেয়ে বড় বাধা দক্ষ শিক্ষকের অভাব। কেবল ভাষাজ্ঞান থাকলেই হয় না, বরং শিক্ষার্থীদের বয়স ও সক্ষমতা অনুযায়ী পাঠদানের বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। শিক্ষক নিয়োগ, বেতন-ভাতা নির্ধারণ এবং পেশাগত উন্নয়নের সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা এখনো অস্পষ্ট। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও সম্মানী ছাড়া এই পরিকল্পনা কেবল কাগজে-কলমেই রয়ে যেতে পারে। প্রয়োজনীয় শিক্ষক কোথায় পাওয়া যাবে, এটি বড় প্রশ্ন। স্কুলপর্যায়ে তৃতীয় ভাষা পড়ানোর জন্য অনেক শিক্ষক লাগবে। বিপুলসংখ্যক দক্ষ শিক্ষক রাতারাতি তৈরি করা সম্ভব নয়। কোন ভাষার জন্য কতজন শিক্ষক দরকার, কোথা থেকে তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হবে, বেতন-ভাতা ও পেশাগত উন্নয়ন কীভাবে হবে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা এখনো দেখা যায় না।

শহরের নামিদামি স্কুলগুলো বাড়তি ফি নিয়ে বিদেশি শিক্ষক নিয়োগ দিলেও গ্রামের বিদ্যালয়গুলোর অবস্থা শোচনীয়। সেখানে শ্রেণিকক্ষ, বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেটের মতো মৌলিক সুযোগ-সুবিধাই সীমিত। ফলে গ্রামীণ ও শহরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে ভাষাগত ও ডিজিটাল বৈষম্য তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শহরের অভিজাত স্কুল হয়তো বাড়তি ফি নিয়ে বিদেশি শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারবে।

শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগের বড় জায়গা হলো অনেক শিক্ষার্থী এখনো মৌলিক পাঠদক্ষতা অর্জনে পিছিয়ে আছে। ২০২৩ সালে বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের জরিপে দেখা গেছে, ৫ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে বড় একটি অংশ বাংলা ও ইংরেজিতে গল্প পড়ার সাধারণ দক্ষতাটুকুও আয়ত্ত করতে পারেনি। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ছেলেদের প্রায় ৬২ শতাংশ এবং মেয়েদের প্রায় ৫৩ শতাংশ বাংলায় গল্প পড়তে ব্যর্থ হয়েছে। ইংরেজির ক্ষেত্রে এই হার যথাক্রমে ৮৫ শতাংশ ও ৮৩ শতাংশ। বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে ২০২৩ সালে ৫ থেকে ১৬ বছর বয়সী দেড় হাজারের বেশি শিশুর ওপর এক জরিপ চালানো হয়। ওই জরিপের তথ্য বলছে, বাংলায় গল্প পড়তে পারেনি প্রায় ৬২ শতাংশ ছেলে ও ৫৩ শতাংশ মেয়ে। অর্থাৎ অনেক শিক্ষার্থী মৌলিক পাঠদক্ষতাই অর্জন করতে পারছে না (, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬)।

প্রাথমিক ভিত মজবুত না করে নতুন ভাষা চাপিয়ে দেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে। তাই সবার ওপর একই ভাষা বাধ্যতামূলক না করে শিক্ষার্থীর আগ্রহ ও ক্যারিয়ারের চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। মধ্যপ্রাচ্যে কাজের জন্য আরবি, প্রযুক্তির জন্য জাপানি-কোরীয় কিংবা বাণিজ্যিক প্রয়োজনে ম্যান্ডারিন ভাষা বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত।

ভাষা শিক্ষা একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া।

এই উদ্যোগ সফল করতে হলে একটি জাতীয় ভাষানীতি ও কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন। প্রথমে শিক্ষক চাহিদা নিরূপণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা জরুরি। এছাড়া বিদেশি দূতাবাসের সহায়তা নিয়ে দেশীয় প্রশিক্ষক তৈরির ওপর জোর দিতে হবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনলাইন শিক্ষক ও ডিজিটাল উপকরণের সমন্বিত ব্যবহারের পাশাপাশি ধাপে ধাপে পাইলট প্রকল্প হিসেবে কিছু স্কুলে এই কার্যক্রম চালু করা যেতে পারে। শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে অবকাঠামো ও অর্থায়নে সুস্পষ্ট নীতিমালা নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি। ফলে একটি ভালো উদ্যোগ নতুন বৈষম্যের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

এই বিভাগের আরো খবর