
গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান অস্থিরতার নেপথ্যে পলাতক অপশক্তি কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি জানান, সরকার ইতিমধ্যে এই অপশক্তিকে শনাক্ত করেছে। তবে কিছু গণমাধ্যম প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে পোশাক খাতের অস্থিরতাকে কেবল শ্রমিক আন্দোলন হিসেবে প্রচার করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে, যা দেশের মানুষ সফল হতে দেবে না। তবে বাংলাদেশের জনগণ তাদের ষড়যন্ত্র কিছুতেই সফল হতে দেবে না।
বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই বিপ্লব হলে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিএমইউজে) আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা অনস্বীকার্য। অহেতুক অস্থিরতায় উসকানি দিলে দেশ ও গণমাধ্যম উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রধান সম্পাদক ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী বলেন, গত ১৭ বছর যারা দাসত্বের সাংবাদিকতা করেছেন, তারা এখন লোকলজ্জায় প্রকাশ্যে আসতে পারছেন না। তিনি বলেন, দাসত্বের চর্চায় ফ্যাসিবাদী শাসন দীর্ঘায়িত হয়েছিল এবং দেশের মানুষ আয়নাঘরের তথ্য জানতে বিদেশি গণমাধ্যমের মুখাপেক্ষী ছিল। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রকৃত সাংবাদিকদের তালিকা প্রণয়নের মাধ্যমে অপসাংবাদিকতা রোধের আহ্বান জানান। ১৭ বছর ধরে যারা দাস সাংবাদিকতার চর্চা করেছেন, তাঁরা এখন লোকচক্ষুর অন্তরালে অবস্থান করে প্রকাশ্যে আসতে লজ্জা পাচ্ছেন।
সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছির জামাল বলেন, আগে কল্যাণ ট্রাস্টের সুবিধা শুধু নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের সাংবাদিকরা পেতেন, কিন্তু বর্তমানে সেই বৈষম্য দূর করা হয়েছে। আমাদের যেন সেই পরিণতি ভোগ করতে না হয়, সে জন্য সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে অপসাংবাদিকদের প্রভাব বেড়েছে।
পেশাদার ও অসচ্ছল সাংবাদিকদের সহায়তায় সরকার নানা কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী সাংবাদিকদের জন্য মাসিক ভাতা চালু এবং ট্রাস্টের অনুদান ২৫ কোটি টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও অসুস্থ সাংবাদিকদের জন্য তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সহায়তা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন সিএমইউজে সভাপতি মোহাম্মদ শাহনওয়াজ, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদসহ অনেকে। অনুষ্ঠান শেষে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি ও বান্দরবানের ২০ জন অসুস্থ ও অসচ্ছল সাংবাদিকের হাতে সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়।