
এইচএসসি পরীক্ষায় দায়িত্বে অবহেলার কারণে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিবসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইতিহাস বিষয়ের পরীক্ষায় নির্ধারিত প্রশ্নের পরিবর্তে ২০২৫ সালের পুরোনো প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনায় কেন্দ্র সচিবকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দুই কক্ষ পরিদর্শক ও প্রশাসনের মনোনীত দুই ইনভিজিলেটরকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। পরে ক্ষতিগ্রস্ত ১৬ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় দিয়ে পুনরায় নেওয়া হয়।
জানা গেছে, গত ১৯ জুলাই রোববার ফুলবাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ওই কেন্দ্রে পাঁচটি কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। এদিন ইসলামের ইতিহাস, ইতিহাস, ব্যবস্থাপনা ও পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা ছিল।
পরীক্ষার সময় কেন্দ্রের ৮ নম্বর কক্ষে ইতিহাস বিভাগের ১৮ পরীক্ষার্থীর মধ্যে চলতি বছরের ও পুরোনো পরীক্ষার্থী ছিলেন। পরীক্ষা শুরুর পর দেখা যায়, ইতিহাস বিষয়ের (বিষয় কোড-৩০৪) জন্য ২০২৬ সালের প্রশ্নের পরিবর্তে ২০২৫ সালের পুরোনো প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি জানাজানি হলে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকজন পরীক্ষা না দেওয়ার ঘোষণা দেন। পরে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার আশ্বাস দিলে তারা শান্ত হন। নির্ধারিত সময় শেষে ক্ষতিগ্রস্ত ১৬ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় দিয়ে নেওয়া হয়।
ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলারা আক্তার বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করেন। পরে কেন্দ্র সচিব ও কলেজের অধ্যক্ষ ওয়াদুদ আলীকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
এছাড়া ফুলবাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক ও কক্ষ পরিদর্শক কুদ্দুস আলী এবং আশিকা প্রেয়ারীকে পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের মনোনীত ইনভিজিলেটর জনস্বাস্থ্য সহকারী প্রকৌশলী হাসান আলী ও সহকারী প্রোগ্রামার (আইসিটি) রফিকুল ইসলামকেও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য কলেজের উপাধ্যক্ষ আসাদুজ্জামান সরকার লিটুকে ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্র সচিব আসাদুজ্জামান সরকার লিটু বলেন, “আমি ছুটিতে ছিলাম। শুনেছি ভুলবশত ইতিহাস বিভাগের নৈমিত্তিক প্রশ্ন দেওয়া হয়েছিল। পরে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।”
অধ্যক্ষ ওয়াদুদ আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “শারীরিক সমস্যার কারণে আমি পরীক্ষার কেন্দ্র থেকে অব্যাহতি নিয়েছি।” তবে প্রশ্নপত্র বিতরণের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
ইউএনও দিলারা আক্তার বলেন, “পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানোর পর কেন্দ্র সচিবকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। দুই কক্ষ পরিদর্শক ও দুই ইনভিজিলেটরকেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অধ্যক্ষকে শোকজ করা হয়েছে।”
ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে—এত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের অবহেলায় কীভাবে পুরোনো প্রশ্নপত্র পরীক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছাল, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।