
আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (৪ মে) নির্ধারিত সময়ে ফরম নিতে গিয়ে একাংশ আইনজীবী বাধার মুখে পড়ার অভিযোগ তুলেছেন।
সমিতির নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও দাখিলের সময় ছিল। তবে ‘সাধারণ আইনজীবী ফোরাম’র ব্যানারে আওয়ামী লীগ ও বামপন্থি আইনজীবীরা লাইব্রেরি কক্ষে প্রবেশ করতে গেলে তারা বাধার সম্মুখীন হন বলে অভিযোগ করেন।
সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এ এইচ এম জিয়া উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, আগের বছরের মতো এবারও তাদের ফরম নিতে দেওয়া হচ্ছে না। একই অভিযোগ করেন সভাপতি পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট আবদুর রশিদ। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থাকলেও তারা লাইব্রেরিতে ঢুকতে পারেননি, অথচ একটি পক্ষ আগে থেকেই ভিতরে অবস্থান করে ফরম সংগ্রহ করেছে।
এ সময় বঞ্চিত আইনজীবীরা লাইব্রেরির সামনে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন, যা পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তোলে। অভিযোগের বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আইনগত বিধিনিষেধের কারণে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক সংগঠনের সংশ্লিষ্টদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। তিনি দাবি করেন, বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত।
সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হাসান আলী চৌধুরীও বলেন, ‘সাধারণ আইনজীবী’ ব্যানারে যারা এসেছেন, তারা প্রকৃতপক্ষে রাজনৈতিক পরিচয়ধারী এবং বহিরাগতদের নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন। সাধারণ আইনজীবীদের ফরম নিতে বাধা দেওয়া হয়েছে— এমন কোনো অভিযোগ তারা পাননি বলেও জানান তিনি।
ফরম গ্রহণে বাধা দেওয়ার বিষয়ে জানতে মুখ্য নির্বাচন কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট রৌশন আরা বেগমকে ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
উল্লেখ্য, সমিতির নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী ৫ মে মনোনয়ন বাছাই, ৮ মে প্রত্যাহার, ৯ মে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ এবং আগামী ২১ মে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বছর প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ২১টি পদে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত প্যানেল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিল, যা সমিতির ইতিহাসে বিরল ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়।
পরে ক্ষুব্ধ আইনজীবীরা একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করেন।