1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
  4. : temp-login-BxH6QyEPU5XH7Ed :
দেশের কর্মক্ষম মানুষের ৮৪ শতাংশই অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করছেন: বিশ্বব্যাংক - আজকের কাগজ
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৩৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ইসলামপন্থি ও কমিউনিস্টদের নিয়ন্ত্রণে: টেড ক্রুজ ইউটিউব দেখে জাল টাকা তৈরির কারখানা: হায়দরাবাদে আটক ৪ বার্ষিক ৯ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্যে মুখর খুলনার প্রাচীন বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের জয়ে ট্রাম্পের চ্যালেঞ্জ যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে জয়ী গাজায় চিকিৎসাসেবা দেওয়া সেই চিকিৎসক ভারতের রাজত্বে ভাগ বসাবে কে: সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ইয়েমেনে সৌদি জোটের হামলায় ২০ জনের প্রাণহানি: হুথিদের দাবি কিশোরগঞ্জে সাবেক এমপি আখতারুজ্জামানের ছেলেকে আঘাত, ঢাকায় স্থানান্তর ইরান যুদ্ধে নতুন অর্থ বন্ধের দাবি ডেমোক্র্যাট সিনেটরের যুক্তরাষ্ট্রে আসছে দুই বছরের তীব্র সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক সংকট

দেশের কর্মক্ষম মানুষের ৮৪ শতাংশই অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করছেন: বিশ্বব্যাংক

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ৭:৩৯ এএম
শেয়ার করুন

বাংলাদেশের প্রায় ৮৪ শতাংশ কর্মক্ষম মানুষ বর্তমানে অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত, যার সংখ্যা আনুমানিক ৫ কোটি ৮০ লাখ। এই বিশাল কর্মীবাহিনীর কোনো আনুষ্ঠানিক নিয়োগপত্র নেই এবং তারা আইনি সুরক্ষা বা নির্ধারিত মজুরিকাঠামোর বাইরে কাজ করছেন। স্নাতক বা তার চেয়ে বেশি শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের মধ্যে ৬০ শতাংশেরও বেশি বাধ্য হয়ে এই অনিয়মিত খাতে কাজ করছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, আনুষ্ঠানিক খাতের তুলনায় এসব পেশাজীবীদের আয় ৪৫ থেকে ৮৪ শতাংশ পর্যন্ত কম। বিশ্বব্যাংকের ‘ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জ ইন সাউথ এশিয়া: ফ্রম টেলউইন্ডস টু হেডউইন্ডস ফর ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। স্নাতক বা তার চেয়ে বেশি শিক্ষিত ব্যক্তিদের ৬০ শতাংশের বেশি চাকরি না পেয়ে অনানুষ্ঠানিক কাজে যোগ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে তাঁদের আইনি সুরক্ষা থাকে না বললেই চলে। প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় এটি সর্বনিম্ন।

রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংকের রিজিওনাল প্র্যাকটিস ডিরেক্টর জেম মেতে, এশিয়ার প্রধান অর্থনীতিবিদ ফ্রান্সিসকা লিজেলোটে ওনসর্গ এবং বাংলাদেশ ও ভুটানের অপারেশনস ম্যানেজার গেইল মার্টিন উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পর্যাপ্ত আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান তৈরি না হওয়ায় ৪৫ থেকে ৭০ শতাংশ উদ্যোক্তা নিয়মিত চাকরির অভাবে নিজেদের ছোট উদ্যোগে সম্পৃক্ত হয়েছেন। এছাড়া বর্তমানে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের ২৯ শতাংশ বেকার এবং প্রায় অর্ধেক কর্মীর দক্ষতা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশের শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার ৩৬ শতাংশ। উচ্চশিক্ষিত বেকারত্ব ও শ্রমবাজারে লুকিয়ে থাকা বাস্তবতা।

জনমিতির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০৪৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর হার সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছাবে। এরপর কর্মক্ষম জনসংখ্যা কমতে শুরু করবে এবং প্রবীণ মানুষের সংখ্যা বাড়বে। বিশ্বব্যাংকের মতে, ধনী হওয়ার আগেই বয়স্ক সমাজে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ, কারণ শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষায় দেশের বর্তমান প্রস্তুতি যথেষ্ট নয়। ২০৫০ সালের মধ্যে কর্মসংস্থানের তুলনায় শ্রমের জোগান ১ কোটি ৩০ লাখ বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাই আগামী দুই দশক জনমিতিক সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রবীণদের সামাজিক সুরক্ষার অবস্থাও দুর্বল। তা না হলে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগগুলো কোথায় তৈরি হচ্ছে এবং সেগুলোকে কীভাবে এগিয়ে নিতে হবে, তা আমরা বুঝতে পারব না।’।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তির হার মাত্র ৩৬ শতাংশ, যেখানে দক্ষিণ এশিয়ার গড় হার ৬২ শতাংশ। এছাড়া সামাজিক সুরক্ষা খাতে বাংলাদেশের বরাদ্দ অঞ্চলটির মধ্যে সর্বনিম্ন এবং এর মাত্র ২ শতাংশ দরিদ্র শিশুদের পেছনে ব্যয় হয়। বর্তমানে সরকারি বয়স্ক ভাতা মাসে মাত্র ৫০০ টাকা, যা মূল্যস্ফীতির বিবেচনায় খুবই অপ্রতুল। ২০৫০ সালের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিকের সংখ্যা ৪ কোটিতে পৌঁছাবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা সামাজিক সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে। সংস্থাটি বলেছে, সামাজিক সুরক্ষা ব্যয়ের মাত্র ২ শতাংশ পায় দরিদ্র শিশুরা।

প্রতিবেদন পরবর্তী আলোচনায় সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, সরকার জীবনচক্রভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দিচ্ছে যাতে তরুণ প্রজন্ম দক্ষ ও স্বাস্থ্যবান হয়ে গড়ে উঠতে পারে। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি বলেন, প্রবীণদের বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন পরিকল্পনা ও বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো তৈরির বিষয়টি সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। তরুণদের স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে কাজের উপযোগী করে গড়ে তোলা ছাড়া জনমিতির সুবিধা পাওয়া কঠিন হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সবার জন্য কর্মসূচিগুলো আমরা বিস্তৃত করছি। আমাদের লক্ষ্য, তরুণ প্রজন্ম যেন স্বাস্থ্যবান ও দক্ষ হয়ে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে।’।

পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, অনানুষ্ঠানিক খাতের প্রচলিত সংজ্ঞাকে নতুনভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। একে অনুন্নত মনে না করে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত, যাতে কর্মসংস্থানের গতিপ্রকৃতি আরও স্পষ্টভাবে বোঝা সম্ভব হয়। আলোচনায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক নাজনীন আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। বিশ্বব্যাংকের পর্যবেক্ষণ হলো, অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধির গতি উদীয়মান অন্যান্য অর্থনীতির তুলনায় বাংলাদেশে অর্ধেক, যা দীর্ঘমেয়াদি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর