
নওগাঁর মহাদেবপুরে যৌতুকের দাবীতে স্বামী শ্বাশুড়ির নির্যাতনে অতিষ্ঠ এক গৃহবধূ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে।
২১ মে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে উপজেলার উত্তরগ্রাম ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামে এঘটনাটি ঘটে । এঘটনায় ওই গৃহবধূর মামা মিলন হোসেন বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে ৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। স্থানীয়রা জানান, প্রায় ৪ বছর আগে নওগাঁ সদর উপজেলার বক্তারপুর এলাকার দরিদ্র সোহেল রানার মেয়ে রেহানা খাতুন (২২) সঙ্গে মহাদেবপুর উপজেলার সুলতানপুর এলাকার রতন ইসলামের পারিবারিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিয়ে হয়।বিয়ের সময় রেহানার দরিদ্র পিতা যৌতুক হিসেবে রতন মন্ডলকে নগদ ১ লাখ টাকা এবং প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র দিয়ে বিয়ে দেন। তাদের সংসারে ৩ বছরের একটি পুত্র সন্তানও রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, বিয়ের কিছুদিন পর থেকে রতন মন্ডল ও তার মা জহুরা বেগম ব্যবসা করার জন্য ৩ লাখ টাকা যৌতুক দাবী করে আসছিল রেহানার কাছে। স্বামী ও শ্বাশুরির দাবীকৃত যৌতুকের ৩ লাখ টাকা রেহানার দরিদ্র পিতার পক্ষে দেয়া অসম্ভব হয়ে ওঠে। দফায় দফায় দাবীকৃত যৌতুকের ওই টাকা না পেয়ে নানা অজুহাতে রেহানার ওপর প্রায় প্রতিদিন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতো স্বামী ও শ্বাশুরিসহ পরিবারের সদস্যরা।
স্থানীয়রা জানান, ২১ মে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রেহানা ও তার স্বামী রতন মন্ডলের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ শুরু হয়। সুত্রমতে ঝগড়া বিবাদের এক পর্যায়ে রেহানাকে তার স্বামী রতন মন্ডল ও শ্বাশুরি জহুরা বেগম লাঠি দিয়ে মারপিট করে।পরদিন শুক্রবার সকালে রতন মন্ডলের নিজ শয়ন ঘরের সেলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না বেঁধে রেহানার গলায় ফাঁস লাগানো ঝুলন্ত মরদেহ দেখে স্থানীয়রা থানা পুলিশকে জানায়। এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী ও শ্বাশুরি পলাতক রয়েছেন। খবর পেয়ে থানার এসআই আব্দুল মতিন মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ওমর ফারুক বলেন,ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরে আইন অনুযায়ী দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।