
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) অধীনে এমএসএস ইন সমাজবিজ্ঞান প্রোগ্রামে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে ইতিহাস গড়েছেন তানিয়া ইয়াসমিন চৌধুরী। তিনি বাউবি থেকে ডিগ্রি অর্জনকারী প্রথম তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থী। ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষে পড়াশোনা করা তানিয়া ৪ দশমিক ০০ সিজিপিএর মধ্যে ৩ দশমিক ৩০ সিজিপিএ অর্জন করে নিজের মেধা ও কঠোর অধ্যবসায়ের স্বাক্ষর রেখেছেন।
গত ২৮ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তানিয়াকে বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন তাঁর হাতে এই ক্রেস্ট তুলে দেন। বাউবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান খানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। গত ২৮ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে তানিয়া ইয়াসমিন চৌধুরীর এই কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বাউবি প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কাছে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। বয়স, পেশা, ভৌগোলিক অবস্থান কিংবা সামাজিক পরিচয় যেন উচ্চশিক্ষার পথে কোনো বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেই লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠানটি জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ তৈরি করছে। তানিয়ার এই সাফল্য তাদের সেই অন্তর্ভুক্তিমূলক দর্শনের একটি বড় উদাহরণ। আজ শুক্রবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাউবি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার বাইরে থাকা এবং শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য শিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে সমাজের এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় অংশগ্রহণ ও নিজেদের যোগ্যতা বিকাশের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
তানিয়া ইয়াসমিন চৌধুরীর এই সাফল্যের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর জন্য বাউবির রংপুর আঞ্চলিক কেন্দ্রের অধীনে পরিচালিত বিশেষ স্টাডি সেন্টারের কার্যক্রম সম্পর্কে জেনে তিনি সন্তুষ্টি জানান। পাশাপাশি, এই ধরনের অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষামূলক উদ্যোগের প্রসারে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর যোগ্যতাবিকাশে এই উদ্যোগ একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।