
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় ১৭ বছর বয়সী এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ১৯ অক্টোবর রাতে উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের আড়াইবেকী এলাকায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগের তীর মূলত ওই নারীর স্বামীর আত্মীয় ইমরান প্যাদা (৩৮) ও রাকিব প্যাদার (২৬) দিকে। ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, ইমরান সম্পর্কে তার স্বামীর সৎভাই এবং রাকিব তার চাচা শ্বশুর। নতুন পোশাক কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ইমরান তাকে স্থানীয় বাজারে নিয়ে যান এবং ফেরার পথে নির্জন স্থানে নিয়ে রাকিবের সহায়তায় নির্যাতন চালান। বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় ১৭ বছর বয়সী এক নববধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর স্বজনদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ অক্টোবর রাতে উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের আড়াইবেকী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের আশায় গত ২৩ অক্টোবর বরিশাল জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে লিখিত অভিযোগ জমা দেন ভুক্তভোগী। লিগ্যাল এইড অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে তিনি বাকেরগঞ্জ থানায় হাজির হন। অভিযোগকারী নারীর দাবি, থানায় গিয়ে ওসি আদিল হোসেনের সঙ্গে দেখা করলে তিনি মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানান। ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, উল্টো ওসি তাকে ভয়ভীতি দেখান এবং এই ঘটনায় মামলা করার মতো কোনো প্রমাণ নেই বলে মন্তব্য করেন। এ সময় অভিযুক্ত ইমরানকে নিয়ে ওসি আপত্তিকর উপহাসও করেছেন বলে অভিযোগ ওই নারীর। ওসি তাকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন যে, অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হলে তার সাত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আদিল হোসেন। তার ভাষ্যমতে, ওই নারী তার স্বামী এবং শ্বশুর-শাশুড়িকে সঙ্গে নিয়ে থানায় এসেছিলেন। তাদের কাছে কোনো আলামত পাওয়া যায়নি এবং লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা বলা হলেও তারা তা না দিয়ে চলে যান।
ঘটনাটি নিয়ে বরিশাল জেলার পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সংঘবদ্ধ নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগ এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ওসি মামলা না নিয়ে থাকলে বা ভুক্তভোগীকে কোনো ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে থাকলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে অভিযুক্ত ওসির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।