
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ডিলারের গুদামের বেড়া ভেঙে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় গঠিত উপজেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি অভিযুক্ত বিএডিসি ডিলারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে। তদন্তে কৃষকদের কাছে সার বিক্রি ও সরবরাহে একাধিক অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অভিযুক্ত ডিলারের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে—নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কৃষকদের কাছে সার বিক্রি না করে অন্য মাধ্যমে সার বিক্রি করা এবং কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ না করা। এছাড়া সার সংরক্ষণ ও বিতরণসংক্রান্ত আরও কয়েকটি অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি।
ইউএনও অমৃত দেবনাথ বলেন, “তদন্ত প্রতিবেদনে ডিলারের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসকের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযুক্ত ডিলারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর আগে রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের এক বিএডিসি ডিলারের গুদামের বেড়া ভেঙে বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা প্রায় ১৯৭ বস্তা সার নিয়ে যান। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পরে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে ১০৭ বস্তা সার উদ্ধার করে। বাকি সার উদ্ধারে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্তে ডিলারের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার পর এখন তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। ফলে সার বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে অভিযুক্ত ওই ডিলারের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তা নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।