
কক্সবাজারের টেকনাফে মেরিন ড্রাইভ সড়কে ডাকাতির প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি ওয়ান শুটার গান, সাত রাউন্ড গুলি, একটি চাইনিজ কুড়াল, একটি খেলনা পিস্তল, একটি বাটন মোবাইল ফোন এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ইজিবাইক জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ভোরে টেকনাফ মেইন বিচ ও শিশু পার্ক এলাকায় টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এ অভিযান চালায়। বিজিবির দাবি, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত প্রায় দুই ঘণ্টার অভিযানে ডাকাত দলের তিন সদস্যকে আটক করা হয়। এ সময় আরও দুজন পালিয়ে যায়।
বিজিবি সূত্র জানায়, বুধবার রাত ২টার দিকে সীবিচ বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ অভিযান শুরু করে বিজিবির একটি দল। ভোর ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে মেরিন ড্রাইভ সড়ক দিয়ে একটি ইজিবাইকে কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দ্রুতগতিতে শিশু পার্কের দিকে যেতে দেখা যায়। বিজিবি সদস্যরা ইজিবাইকটি থামার সংকেত দিলে তারা তা অমান্য করে পালানোর চেষ্টা করে।
পরে বিজিবি সদস্যরা তাদের ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে একটি চাইনিজ কুড়ালসহ একজনকে আটক করা হয়। এরপর প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে অভিযান চালিয়ে আরও দুজনকে আটক করা হয়। তবে রাতের অন্ধকারের সুযোগে আরও দুজন পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে বিজিবি।
আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে ইজিবাইকে অস্ত্র লুকিয়ে রাখার তথ্য পাওয়া যায়। পরে ইজিবাইকের তলদেশে তৈরি বিশেষ একটি বক্সে তল্লাশি চালিয়ে একটি ওয়ান শুটার গান, সাত রাউন্ড গুলি এবং বিদেশি পিস্তল সদৃশ একটি খেলনা পিস্তল উদ্ধার করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—টেকনাফের গোদারবিল এলাকার আল আমিন (১৯), মহেশখালীয়াপাড়া এলাকার নুরুল আবছার (২৬) এবং গোদারবিল এলাকার রবিউল হাসান (২১)।
টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি ডাকাতি, অস্ত্র ও মাদক চোরাচালানসহ সব ধরনের সীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা নজরদারি, নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বিজিবি জানায়, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। পরে তাদের জব্দ করা অস্ত্র, গোলাবারুদ, দেশীয় অস্ত্র, ইজিবাইকসহ টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।