
উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে তৎপর একটি সংঘবদ্ধ মোটরসাইকেল চোরচক্রের পর্দা ফাঁস করেছে পুলিশ। টানা অভিযানে চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি উদ্ধার করা হয়েছে ১০টি চোরাই মোটরসাইকেল—যা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে জেলা পুলিশ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরা হয়।
পুলিশ জানায়, গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে কুড়িগ্রাম সদর এলাকার কোর্ট চত্বর, নিউরন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সদর হাসপাতাল ও জিয়া বাজার এলাকা থেকে একের পর এক মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে ১৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় সদর উপজেলার হাসপাতালপাড়া এলাকার একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে একটি টিভিএস অ্যাপাচি ১৬০ সিসি মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাটি তদন্তে মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
এরপরই নড়ে বসে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করা হয়। অভিযান চালিয়ে গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকা থেকে শাহজামাল ওরফে বাবু মিয়া ও নুর ইসলামকে একটি চোরাই মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
তাদের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে চক্রের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক। পরে লালমনিরহাট, উলিপুর, নাগেশ্বরী ও ফুলবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক অভিযানে আরও সাতজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—শাহজামাল ওরফে বাবু মিয়া, নুর ইসলাম, খাইরুল ইসলাম বাবু, রেজাউল হাসান ওরফে বারেক, রফিকুল ইসলাম, মিটুল মিয়া ওরফে পাশা, খায়রুল আলম, আজিজুল হক ও আনিছুর রহমান।
পুলিশের দাবি, চক্রটি দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে প্রথমে কম দামে হাতবদল করত। এরপর ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে সেগুলো ‘লিগ্যাল’ দেখিয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হতো। ইতোমধ্যে গ্রেপ্তারকৃতদের কয়েকজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
উদ্ধার হওয়া ১০টি মোটরসাইকেলের মধ্যে দুটির মালিক শনাক্ত করে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একটি মোটরসাইকেল বর্তমানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হেফাজতে রয়েছে, যা আদালতের নির্দেশে মালিককে ফেরত দেওয়া হবে। বাকি সাতটি মোটরসাইকেল কুড়িগ্রাম থানার হেফাজতে রেখে মালিকানা যাচাই চলছে।
এ ঘটনায় কুড়িগ্রাম থানায় দুটি, লালমনিরহাট সদর থানায় একটি এবং রাজারহাট থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে।
কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি বলেন, “চোরচক্র দমনে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
Leave a Reply