
কুমিল্লায় অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর মহানগর কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ। একই সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে দলের দুই কেন্দ্রীয় নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায় কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিমকে মহানগর জামায়াতের নতুন তত্ত্বাবধায়ক (কেয়ারটেকার) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিলুপ্ত করা কমিটিটি প্রায় ৩০ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছিল।
দলীয় সূত্র জানায়, কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমির পদকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি সংগঠনটির অভ্যন্তরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘাতের সৃষ্টি হয়। সাবেক নায়েবে আমির অধ্যাপক একেএম এমদাদুল হক মামুন এবং সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দলটির সাংগঠনিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়।
সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে গত বৃহস্পতিবার নির্ধারিত কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমির নির্বাচনের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনায় শুক্রবার কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মহানগর কমিটি বিলুপ্ত করার পাশাপাশি নতুন তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম ও কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে কেন্দ্রীয় সংগঠনের কাছে প্রতিবেদন দেবেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মহানগর কমিটি বিলুপ্ত হলেও এর আওতাধীন অঞ্চল, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও ইউনিট পর্যায়ের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মে চলবে। নতুন তত্ত্বাবধায়ক মাওলানা আব্দুল হালিম মহানগর জামায়াতের সার্বিক সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন এবং নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে কাজ করবেন।
কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সাবেক সহকারী সেক্রেটারি কামরুজ্জামান সোহেল বলেন, কেন্দ্রীয় পরিষদ মহানগর জামায়াতের কমিটি বিলুপ্ত করেছে। মাওলানা আব্দুল হালিমকে তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তবে তদন্তের প্রতিবেদন কবে জমা দেওয়া হবে এবং পরবর্তী নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া কখন শুরু হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।