
শিক্ষানগরী রাজশাহীর প্রাণকেন্দ্রে প্রায় ১৫২ একরজুড়ে বিস্তৃত রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় জনবল সংকট দেখা দিয়েছে। সীমিত সংখ্যক আনসার সদস্য ও চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের দিয়ে বিশাল এ ক্যাম্পাসে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে ও নিরাপত্তা শাখার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রুয়েটে আনসার সদস্য রয়েছেন মাত্র ৭৫ জন। এর মধ্যে প্লাটুন কমান্ডার (পিসি) ও সহকারী প্লাটুন কমান্ডার (এপিসি) মিলিয়ে রয়েছেন ৩ জন। বছরে নির্ধারিত ৫০ দিনের ছুটির কারণে গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ২৫ শতাংশ সদস্য ছুটিতে থাকেন। ফলে নিয়মিত দায়িত্বে থাকেন প্রায় ৫০ থেকে ৫৪ জন।
তবে কর্তব্যরত সদস্যদের মধ্যেও কয়েকজন প্রশাসনিক ও সহায়ক কাজে নিয়োজিত থাকায় কার্যত দায়িত্ব পালনে সক্রিয় সদস্যের সংখ্যা আরও কমে যায়। তিন শিফটে দায়িত্ব বণ্টনের ফলে প্রতি শিফটে গড়ে মাত্র ১৮ জন সদস্য পুরো ক্যাম্পাসে দায়িত্ব পালন করেন—যা ক্যাম্পাসের আয়তন ও গুরুত্ব বিবেচনায় অত্যন্ত অপ্রতুল।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মোট ১৯টি নিরাপত্তা পোস্ট থাকলেও বাস্তবে সবগুলোতে প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। উপাচার্যের বাসভবন, মেইন গেট, পকেট গেট ও আরএইচ গেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একাধিক সদস্য মোতায়েনের প্রয়োজন থাকায় অন্যান্য এলাকায় ঘাটতি আরও প্রকট হয়। ফলে গড়ে একজন নিরাপত্তাকর্মীকে ৭-৮ একর এলাকা তদারকি করতে হচ্ছে, যা কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চিতে যথেষ্ট নয়।
এমন পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ, আবাসিক হল ও একাডেমিক ভবন থেকে চুরি, এমনকি মারামারির মতো অপ্রীতিকর ঘটনার অভিযোগ বাড়ছে। একই সঙ্গে চলমান নির্মাণকাজ, স্কুল, ব্যাংক ও আবাসিক ব্যবস্থাপনা—সব মিলিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর চাপ ক্রমাগত বাড়ছে।
অন্যদিকে আইসিটি সেলের তথ্য অনুযায়ী, একটি শীর্ষ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের মানদণ্ড অনুযায়ী পর্যাপ্ত সংখ্যক সিসিটিভি ক্যামেরা নেই। বিদ্যমান ক্যামেরাগুলোরও একটি বড় অংশ বর্তমানে অকার্যকর।
এ বিষয়ে ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার বলেন, “নিরাপত্তা কর্মীর সংখ্যা সরকার নির্ধারণ করে এবং তা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটের ওপর নির্ভরশীল। বাজেটের সীমাবদ্ধতার কারণে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ সম্ভব হচ্ছে না। তবে বাজেট বৃদ্ধির জন্য আবেদন করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদারে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”
নিরাপত্তা শাখার প্রধান আবুল হাশেম বলেন, “বর্তমান জনবল দিয়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়; অন্তত দ্বিগুণ সদস্য প্রয়োজন। ক্যাম্পাস সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও সমানতালে শক্তিশালী করা জরুরি।” তিনি পুরো ক্যাম্পাসকে ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভির আওতায় আনা এবং গুরুত্বপূর্ণ পোস্টগুলোতে একাধিক সদস্য নিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদ্যমান সংকট মোকাবিলায় দ্রুত জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা চালু এবং সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায়ই কেবল নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা সম্ভব।
Leave a Reply