
এক সপ্তাহের অবিরাম ভারি বর্ষণে নদী ও সাগরের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় চরফ্যাশন উপজেলার উপকূলীয় অঞ্চলের শতশত গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। নদী উত্তাল থাকায় ঢালচর, চর নিজাম এবং চরপাতিলাসহ ছোটো ছোটো অনেক চরাঞ্চলের সঙ্গে নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। নদীতে থাকা সকল ধরনের নৌ-যান উপকূলে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে বলে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে।
এছাড়াও নদীর পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায়, উপজেলার একাধিক ইউনিয়নে প্রবল জোয়ারে পানি প্রবেশ করেছে। নদীর পানির উচ্চতা বেড়ে খাল বিল,পুকুর জলাশয় ও মাছের ঘের কৃষি ফসল তলিয়ে গিয়েছে। এছাড়াও একাধিক ইউনিয়নের স্লুইসগেট বন্ধ থাকায় জলাবদ্ধতার কারণে বাসাবাড়িতে পানি প্রবেশ করে। যার ফলে হাস মুরগীর খামারসহ গবাদিপশুর খামারেও পানিতে ডুবে আছে। উপকূলীয় মানুষের জীবন জীবিকা থমকে গেছে গত এক সপ্তাহের অবিরাম এ ভারি বর্ষণে। দুর্যোগকালীন এ সময়ে চরফ্যাশন উপজেলার উপকূলীয় অঞ্চলে বেড়িবাঁধের ঢালে অতি ভারি বর্ষণে কষ্টে থাকা ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষের মাঝে জরুরী খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার বেতুয়া থেকে মাদ্রাজ,হাজারিগঞ্জ বেড়িবাঁধ এলাকায় বাঁধের ঢালে নারী ও শিশু নিয়ে বসবাস করা দরিদ্র পরিবার ও বিভিন্ন ছিন্নমূল অসহায় মানুষের হাতে এ ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেন তিনি। এসময় তিনি কাছ থেকে ভাসমান এসব অসহায় মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। ইউএনও’র দেয়া এ মানবিক খাদ্য সহায়তা পেয়ে অসহায় ও দরিদ্র এসব মানুষের চোখেমুখে আনন্দের হাসি ফুটে ওঠে।এসময় মানবিক এ কর্মকর্তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন এসব ছিন্নমূল মানুষেরা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ বলেন, আমার কাছে তথ্য ছিলো বেড়িবাঁধ এলাকায় ভাসমান ছিন্নমূল পরিবার রয়েছে। এসব অসহায় পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাদের সুখ দুঃখের অংশীদার হওয়ার চেষ্টা করেছি। এক সপ্তাহের ধারাবাহিক বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলের এসব দরিদ্র মানুষের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মানবিক খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। তাদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি এই বৃষ্টিতে অনেক দরিদ্র পরিবারের কর্মক্ষম সদস্য জীবিকা নির্বাহ করতে পারেনি। তাই এসব মানুষের মধ্যে চাল,ডাল, তেল, লবন, চিনি ও হলুদ, মরিচেরগুঁড়োসহ অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী তাদের হাতে তুলে দেয়া হয়।