1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
পদ্মা অয়েল কোম্পানি লি: এর কর্মচারী নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ - আজকের কাগজ
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
আমরাই যেচে সর্বনাশ ডেকে এনেছিলাম: টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে সংসদে স্পিকার এবার লোহিত সাগরে সামরিক অবস্থান নেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের ইরানকে অস্ত্র না দিতে শি জিনপিংকে চিঠি পাঠালেন ট্রাম্প হঠাৎ কমলো স্বর্ণের দাম বার কাউন্সিলে নির্বাচন করতে হাইকোর্টে রিট ব্যারিস্টার সুমনের দুই মাসে ‘ট্র্যাপে ফেলে’ মিরপুরে ১৩ ধর্ষণ, অভিযুক্ত রাব্বি গ্রেপ্তার নাগরিকদের ‘ই-হেলথ কার্ড’ দেওয়ার উদ্যোগ লাল মুক্তিবার্তা ও ভারতীয় তালিকা থেকে ৬৪৭৬ ‘ভুয়া’ মুক্তিযোদ্ধা বাদ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ইস্টার্ন রিফাইনারি ‘লো-ফিডে’ চালু, সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়বে না: জ্বালানি মন্ত্রণালয়

পদ্মা অয়েল কোম্পানি লি: এর কর্মচারী নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

রাজু চৌধুরী, চট্টগ্রাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৫ ৯:২৩ পিএম
শেয়ার করুন

রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের কর্মচারী নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়মের ও প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে, নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে উঠেছে বাণিজ্যের অভিযোগ। প্রশ্ন ফাঁস, পরীক্ষার সময় কমিয়ে দেওয়া এবং তড়িঘড়ি ফল প্রকাশের মাধ্যমে প্রকৃত মেধাবীদের বঞ্চিত করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে পছন্দের প্রার্থীদের চাকরি নিশ্চিত করার অভিযোগ করেছেন বঞ্চিত পরীক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, চলতি বছরের ১৩ আগস্ট প্রকাশিত চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ১ নভেম্বর শনিবার চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল এন্ড কলেজে পদ্মা অয়েলের এভিয়েশন বিভাগে কম্পিউটার অপারেটর, মেকানিক, এবং এটেনডেন্ট অপারেটর, ফুয়েলিং পদের জন্য লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু, এই পরীক্ষায় বেশ কিছু অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছে, যা ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
এইদিকে উক্ত নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশ হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সংক্রান্ত নানা বিরূপ মন্তব্য করতেও দেখা গেছে।

পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী কয়েকজন বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরে বলেন, দেড় ঘণ্টার পরীক্ষা ৪৫ মিনিটে শেষ করা, পরীক্ষা শেষের ৪/৫ ঘণ্টার মধ্যে ফলাফল ঘোষণা করা এবং পরীক্ষাকেন্দ্রের এলাকার ফটোকপির দোকানে উত্তরসহ প্রশ্নপত্র পাওয়া যাওয়ার কথা বলেন।

রবিবার(২রা নভেম্বর) তিন পদের ফলাফল ঘোষণা করে পদ্মা অয়েল পিএলসি। তার মধ্যে লিখিত পরীক্ষায় কম্পিউটার অপারেটর পদে ১৭ জন মেকানিক ১৬ জন এবং এটেনডেন্ট (ফুয়েলিং) পদে ২২ জন উত্তীর্ণ হন। সেখান থেকে ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে ১৯ জন প্রার্থীকে চূড়ান্ত নিয়োগ দেয়া হবে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।

পরীক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এডমিট কার্ডে পরীক্ষার সময় ছিল দুপুর তিনটা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত, অর্থাৎ দেড় ঘণ্টা। কিন্তু পরীক্ষা নেওয়া হয় মাত্র ৪৫ মিনিটে এবং ৪৫ মিনিট পরেই পরীক্ষার খাতা সংগ্রহ করা হয়। এমনকি, পরীক্ষার সময় কমানোর বিষয়টি পরীক্ষার্থীদের আগে জানানো হয়নি, যা নিয়ে তাদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

তারা আরও অভিযোগ করে বলেন, পরীক্ষার দিন সকাল থেকেই চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের আশেপাশের ফটোকপির দোকানগুলোতে পরীক্ষার প্রশ্ন বিক্রি করতে দেখা গেছে। মোটা অংকের বিনিময়ে প্রশ্নগুলো পাওয়া যায়। এই প্রশ্ন এবং উত্তর শিটগুলোর সাথে পরীক্ষা হলের প্রশ্নের হুবহু মিল ছিল। এটি প্রশ্ন ফাঁসের একটি বড় প্রমাণ। জিম নামে এক পরীক্ষার্থী বলেন, ‘একই দিনে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে মাত্র ৪/৫ ঘণ্টায়। লিখিত পরীক্ষায় এমসিকিউ প্রশ্ন না থাকলেও, এত দ্রুত ফলাফল নিরীক্ষণ ও প্রকাশ করা কীভাবে সম্ভব? এখানে যারা নিয়োগ পেয়েছে, তারা আগে থেকে সিলেকশন করা। আর ফলাফল আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল এবং দ্রুততার সাথে প্রকাশ করা হয়েছে।

পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হলে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করতে দেখা যায়। ‘জাকির হোসেন সাংবাদিক’ নামক এক ফেসবুক আইডির দেয়া পোস্টের মন্তব্যে আবু মোহাম্মদ নোমান নামে একজন মন্তব্য করেন- ‘আমার একজন ক্যান্ডিডেট ছিল, সবগুলো প্রশ্নের উত্তর সঠিকভাবে সম্পন্ন করার পরও তার রোল নাম্বার না দেখতে পেয়ে খুবই হতাশ হলাম। তাহলে মেধাবীরা কিভাবে আগাবে? এই রেজাল্ট বাতিল করে সঠিকভাবে পুনরায় পরীক্ষা নিয়ে মেধাবীদের মূল্যায়ন করতে হবে, না হয় দুর্নীতিবাজ ম্যানেজমেন্টকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।

তাহমিদুল ইসলাম নামে আরেকজন লিখেন- ‘আমার পরিচিত একজন, পরীক্ষার সবই ওর কমন পড়েছিল, ও খুব ভালো পরীক্ষা দিয়েছে। কিন্তু রেজাল্ট ফেইল। ও বলল, পরীক্ষার দিন পরীক্ষার আগেই পরীক্ষার প্রশ্ন দোকানে বিক্রি হয়েছে। প্রশ্ন আগেই ফাঁস হয়ে গেছে।’ বঞ্চিত পরীক্ষার্থীরা দাবি করছেন, এই পাতানো নিয়োগ প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করা হোক এবং যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মচারী নিয়োগের সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তারা উল্লেখ করেছেন, শুধুমাত্র টাকার বিনিময়ে চাকরি পাওয়ার সুযোগ দেওয়া হলেও, প্রকৃত যোগ্যরা তাদের সম্মানজনক স্থান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বঞ্চিত পরীক্ষার্থীরা বলেন, আমরা অবিলম্বে এই প্রহসনের নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল চাই। আমরা কোনোভাবেই পাতানো এই ফল মেনে নেব না। যোগ্যতার ভিত্তিতে এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা নিয়ে কর্মচারী নিয়োগ সম্পন্ন করার দাবি জানাচ্ছি। অভিযোগ রয়েছে যারা পরীক্ষায় উওীর্ণ হইয়েছে তাদের কার কাছে বিমানের জালানী সরবাহের কাজের অভিজ্ঞতা নেই এবং অভিজ্ঞতা সম্পন্ন লোকদের সুযোগ দেওয়া হয়নি।
এই অনিয়মের যোগসাজশে অভিযোগের তীর সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মফিজুর রহমান এবং নিয়োগ কমিটির সদস্যদের দিকে।

অভিযোগ উঠেছে, প্রকৃত দক্ষ শ্রমিকদের বাদ দিয়ে, টাকা দিয়ে পছন্দের লোকদের চাকরি দেওয়া হয়েছে এবং পরীক্ষার রেজাল্টও আগে থেকেই নির্ধারণ করা হয়েছে। এইদিকে, ক্যাজুয়াল হিসাবে বহুদিন ধরে চাকরি করা, রুবেল, ওয়াজেদুল, ইকরাম, তানিম অভিযোগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যারা পরীক্ষায় উওীর্ণ হইয়েছে তাদের কার কাছে বিমানের জালানী সরবাহের কাজের অভিজ্ঞতা নেই এবং অভিজ্ঞতা সম্পন্ন লোকদের সুযোগ দেওয়া হয়নি।

এই বিভাগের আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *