
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ থামাতে কূটনীতিকদের প্রচেষ্টার মধ্যেই ইরানের একটি পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এই হামলা সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধির আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। বেসামরিক পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরায়েলি হামলার কড়া জবাব দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
শুক্রবার ছিল ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ২৮তম দিন। সংঘাত থামাতে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের প্রচেষ্টা চলছে। এমন অবস্থার মধ্যেই শুক্রবার ইয়াজেদ শহরে ইরানের একটি বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা চালায় ইসরায়েলি বিমানবাহিনী। কেন্দ্রটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়ায় অতি প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আহরণে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এটিকে ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামোর একটি অনন্য স্থাপনা। হামলার খবর নিশ্চিত করেছে ইরানের আনবিক শক্তি সংস্থাও। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, এতে কোনো আর্থিক বা কারিগরি ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়েনি।
একইদিন মধ্য ইরানের খোন্দাব ভারী পানি কেন্দ্রে হামলার পাশাপাশি খুজেস্তান ও ইস্পাহানে দুটি বড় ইস্পাত কারখানায়ও হামলা হয়েছে। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার জন্য ইসরায়েলের কাছ থেকে চড়া মূল্য আদায় করে নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
শুক্রবার তেহরানের আশপাশের বিভিন্ন এলাকা, কাশান ও আহভাজ শহরেও হামলা হয়েছে। কোম শহরে নিহত হয়েছে ১৮ জন। চার সপ্তাহের যুদ্ধে ইরানে প্রায় দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। এছাড়া অন্তত ১২০টি জাদুঘর ও ঐতিহাসিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হামলার জবাব দিচ্ছে ইরানও। সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১২ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। যার মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। জ্বালানি সরবরাহকারী কয়েকটি উড়োজাহাজও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিন ইসরায়েলের তেল আবিব ও আশেপাশে কয়েকটি এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে তেলআবিবে একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। কয়েকটি ভবন ও দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিন ইসরালের মধ্যাঞ্চলেও হামলা চালায় ইরান।
এদিন হরমুজ প্রণালিকে ‘স্ট্রেইট অব ট্রাম্প’ মন্তব্য করে ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে, জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে প্রণালীর মাধ্যমে বাণিজ্য সচল রাখতে একটি টাস্ক ফোর্স গঠনের পরিকল্পনা চলছে।
ফ্রান্সে জি-৭ নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানে তাদের অভিযান মাস নয়, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হবে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌচলাচলে টোল আরোপে তেহরানের পরিকল্পনাকে অগ্রহণযোগ্য বলেও অভিহিত করেন তিনি।
অন্যদিকে, শিগগিরই ইরানের সঙ্গে বৈঠকের আশার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ।
আর পাকিস্তান জানিয়েছে, তারা দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানে ভূমিকা রাখছে। তুরস্ক এবং মিশরও মধ্যস্থতায় সহায়তা করছে।
Leave a Reply