1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
রুয়েটে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট থিসিস–প্রজেক্টে বাজেট বৃদ্ধি: জনপ্রতি সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা - আজকের কাগজ
সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ০৬:৪৩ অপরাহ্ন

রুয়েটে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট থিসিস–প্রজেক্টে বাজেট বৃদ্ধি: জনপ্রতি সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা

রুয়েট প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ৭:৩৮ পিএম
শেয়ার করুন

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) আন্ডারগ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীদের শেষ বর্ষের থিসিস ও প্রজেক্ট পরিচালনার জন্য আর্থিক বরাদ্দ সংক্রান্ত একটি যুগোপযোগী নীতিমালা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গত ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ১১১তম সভায় নীতিমালাটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এর আগে গত ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত অর্থ কমিটির ৮৩তম সভায় নীতিমালাটি উত্থাপন করা হলে তা সিন্ডিকেটে অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়। পরে সিন্ডিকেটের অনুমোদনের পর ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে রুয়েটের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আরিফ আহম্মদ চৌধুরীর স্বাক্ষরে সংশ্লিষ্টদের কাছে নীতিমালাটি বাস্তবায়নের জন্য প্রেরণ করা হয়।

নীতিমালার ভূমিকায় উল্লেখ করা হয়, ১৯৮৬ সাল থেকে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীদের থিসিস ও প্রজেক্টের জন্য শিক্ষার্থী প্রতি এক হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও দীর্ঘদিনে মূল্যস্ফীতি প্রায় ১০ থেকে ২০ গুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় এ বরাদ্দ বর্তমান বাস্তবতায় অপ্রতুল হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের গবেষণা কার্যক্রমকে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর করতে নতুন আর্থিক কাঠামো প্রণয়ন করা হয়।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, থিসিস ও প্রজেক্টের জন্য শিক্ষার্থী প্রতি তিন ধাপে আর্থিক বরাদ্দ দেওয়া হবে। প্রথম ধাপে গবেষণা কাজে প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার, যন্ত্রাংশ, কেমিক্যালস, ডাটা কালেকশন ও ভেরিফিকেশনসহ বিভিন্ন উপকরণ ক্রয়ের জন্য প্রকৃত খরচ বা সর্বোচ্চ ১৬ হাজার টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ পাওয়া যাবে। দ্বিতীয় ধাপে গবেষণালব্ধ ফলাফল দেশীয় বা আন্তর্জাতিক জার্নাল ও কনফারেন্সে প্রকাশ ও উপস্থাপনের জন্য নিবন্ধন ফি, প্রকাশনা ফি, যাতায়াত ও আবাসন বাবদ সর্বোচ্চ ১২ হাজার টাকা বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে। তৃতীয় ধাপে কাগজ, কলম, টোনারসহ স্টেশনারি সামগ্রী ও থিসিস বাইন্ডিং বাবদ সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা বরাদ্দের সুযোগ রাখা হয়েছে।

অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে প্রতিটি বিভাগে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের সমন্বয়ে তিন সদস্যবিশিষ্ট ক্রয় কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। সুপারভাইজারের সুপারিশক্রমে শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত ফরমে প্রয়োজনীয় উপকরণের চাহিদাপত্র জমা দিলে যাচাই শেষে উপাচার্যের অনুমোদনে অর্থ ছাড় করা হবে। ক্রয়কৃত দ্রব্যাদি বিভাগীয় ল্যাব ও কেন্দ্রীয় ভান্ডারের স্টক রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করার বাধ্যবাধকতাও নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে।
গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ সংক্রান্ত বরাদ্দের ক্ষেত্রে কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে, যেমন: নিয়মিত শিক্ষার্থী হওয়া, ক্লিয়ারেন্স গ্রহণের আগে পেপার সাবমিশন, প্রবন্ধে শিক্ষার্থী ও সুপারভাইজারের নাম থাকা এবং সুপারভাইজার প্রথম লেখক না হওয়াসহ মোট ১০টি শর্ত মানতে হবে। একজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন একবারই প্রকাশনার জন্য আর্থিক বরাদ্দের আবেদন করতে পারবেন। এ খাতে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

নীতিমালায় অর্থ যোগানের প্রক্রিয়াও স্পষ্ট করা হয়েছে। বিভাগগুলোকে প্রতি বছর বাজেট প্রস্তাবনায় ছাত্রসংখ্যার অনুপাতে নির্ধারিত অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব রেজিস্ট্রার বা কম্পট্রোলারের কাছে জমা দিতে হবে। বাজেট ঘাটতি হলে বিদ্যমান বরাদ্দ ছাত্রসংখ্যা অনুযায়ী বণ্টনের বিধান রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজনে নতুন কমিটি গঠন করে নীতিমালায় পরিবর্তন বা সংশোধনের সুযোগও রাখা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতে, এ নীতিমালার মাধ্যমে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীদের গবেষণা কার্যক্রম আরও বাস্তবভিত্তিক, মানসম্মত ও যুগোপযোগী হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা পরিবেশ জোরদার হবে।

এই বিভাগের আরো খবর