
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) নারী শিক্ষার্থী নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও ক্লাস বয়কট কর্মসূচি পালন করেছেন কম্পিউটার প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভাগের সব শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অনুযায়ী, কম্পিউটার প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের ৯ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে একই বিভাগের নারী সহপাঠীদের বিভিন্নভাবে নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ, ইঙ্গিতপূর্ণ ও অশালীন মন্তব্য ও আক্রমণ চালানোর পাশাপাশি অনুমতি ছাড়া গোপনে মোবাইল ফোনে ছবি ধারণ করেছেন। শুধু তাই নয়, নারী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষিকা ও তাঁদের পরিবার নিয়েও অশ্লীল ও কটূক্তিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীরা প্রথমে বিভাগীয় প্রধান এবং পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ জানালে প্রশাসন বিষয়টি আমলে নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তবে অভিযোগ দায়েরের প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়।
এই প্রেক্ষাপটে অভিযুক্তদের বহিষ্কারের দাবিতে বিভাগের শিক্ষার্থীরা পাঠদান বর্জন করে মানববন্ধনে অংশ নেন। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, অভিযুক্তদের রক্ষা করতে একটি প্রভাবশালী মহল ষড়যন্ত্র করছে। তারা আরও জানান, দীর্ঘসূত্রতা ও অভিযুক্তদের প্রকাশ্যে অবাধ চলাফেরার কারণে ভুক্তভোগী নারী শিক্ষার্থীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
মানববন্ধন চলাকালে শিক্ষার্থীরা ‘নিপীড়কের ঠিকানা এই রুয়েটে হবে না’ এবং ‘পোটেনশিয়াল রেপিস্টের ঠিকানা এই রুয়েটে হবে না’—এমন স্লোগান দেন।
কর্মসূচির একপর্যায়ে রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। শিক্ষার্থীরা তদন্ত কমিটির রিপোর্ট দ্রুত প্রকাশ এবং অভিযুক্তদের বহিষ্কারের জোর দাবি জানান।
শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম সরকার আগামী শনিবারের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট করে জানান, অভিযুক্তদের বহিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত বিভাগে সকল একাডেমিক কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণাও দেন তারা।
উল্লেখ্য, এ ঘটনায় কম্পিউটার প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের ৯ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা হলেন— সুমন মজুমদার, আবিদ হাসান, সাদমান আহমেদ, মুহাম্মদ খুশবু নাহিদ, শারিকুল ইসলাম, বিত্ত সাহা, আরেফিন নওশাদ রাতুল, সরোয়ার জাহান তিয়াস ও ইরাম ওহিদ।