
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের দশলিয়া গ্রামে বসতবাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে ভাতিজাদের এলোপাতাড়ী ধারালো অস্ত্রের কোপে চাচা রাধানাথ হত্যার আলোচিত ঘটনার মামলার প্রধান আসামী দুই ভাতিজা ভাই ভাবিসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
শনিবার দুপুরে র্যাব-১৩ মিডিয়া বিভাগের সিনিয়র সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যম কে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, নিহতের সহোদর বড় ভাই নিপেন চন্দ্র দাস খইলসা (৬১), তার স্ত্রী শংকরী রানী (৫১) ও দুই ছেলে শঙ্করাজ সেন ওরফে ঠাকুর দাস(২৮) এবং সত্য সেন ওরফে সত্য দাস(২১)।
মামলার বরাত দিয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় , পারিবারিক বসতবাড়ির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ছোট ভাই রাধানাথের সঙ্গে বড় ভাই নিপেন চন্দ্র ও তার পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরইমধ্যে নিপেন চন্দ্র দাস বিবদমান জমির সীমানা ঘেঁষে টয়লেট নির্মানের কাজ করতে গেলে দুই ভাইয়ের মধ্যে তুমুল বাগবিতন্ডা শুরু হয়।
এঘটনার পরেরদিন রাধানাথ বাড়ির সামনে ছাগলকে ঘাস খাওয়ানোর জন্য নিয়ে যায়। এই সুযোগে নিপেন চন্দ্র দাসের তার দুই ছেলে শঙ্করাজ ও সত্য দাস পরিকল্পিত ভাবে চাচা রাধানাথ কে একাকভ পেয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাত্ত জখম করে। এসময় রাধানাথের প্রাণফাটা চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হত্যাকারীরা পালিয়ে যায়। তাৎক্ষনিক ভাবে স্থানীয়রা তাকে মুমর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে গাইবান্ধা সদর আঁধুনিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হত্যার এঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে সাদুল্লাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করে। সেইথেকে গ্রেফতার এড়াঁতে আসামীরা গা ঢাকা দেয়। এমতবস্থায় মামলাটির অধিকতর গুরুত্বারোপ করে আসামীদের গ্রেফতারে মাঠে নামে র্যাব।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিক্তিতে র্যাব জানতে পারে আসামীরা বগুড়া সদর উপজেলার নাটাইপাড়া এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ভাড়া বাড়িতে আত্নগোপনে আছেন।
এমন তথ্য নিশ্চিত হয়ে শনিবার ভোররাতে সিপিসি-৩ র্যাব-১৩ গাইবান্ধা এবং সিপিএসি, র্যাব-১২ বগুড়া ক্যাম্পের চৌকস সদস্যরা যৌথভাবে ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৪ আসামীকে গ্রেফতার করে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য গ্রেফতারকৃতদের সাদুল্লাপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।