
কুড়িগ্রামে আলোচিত জোড়া খুনের মামলায় দীর্ঘ ২০ বছর পর রায় দিয়েছেন আদালত। এতে এক আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং চারজনের তিন বছর করে কারাদণ্ড হয়েছে। একই মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস পেয়েছেন আরও চার আসামি।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মো. জয়নাল আবেদীন এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আব্দুল মমিনকে এক হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আমিনুল ইসলাম, সিদ্দিক, সফিকুল ইসলাম ও আবু বক্করকে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় তিন বছর করে কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁদের আরও এক মাস করে কারাভোগ করতে হবে।
অন্যদিকে, মামলার অপর চার আসামি মাইদুল ইসলাম, জয়নাল আবেদীন, হোসেন আলী ও হাসেন আলীকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৬ সালের ২৭ অক্টোবর প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হন জালাল উদ্দিন ও তাঁর ভাতিজা খলিলুর রহমান। এ ঘটনায় নিহত জালাল উদ্দিনের ভাই মো. আব্দুর রউফ বাদী হয়ে রৌমারী থানায় হত্যা মামলা করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে প্রায় দুই দশক পর মামলাটির রায় ঘোষণা হলো।
আসামিপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট তারিকুর রহমান তারিক।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় অতিরিক্ত পিপি তারিকুর রহমান তারিক বলেন, দীর্ঘ ২০ বছর পর মামলাটির রায় হয়েছে। দুজনের বিরুদ্ধে সরাসরি আঘাত করার অভিযোগ থাকলেও তিনি রায়ে সন্তুষ্ট বলে জানান।
দীর্ঘ দুই দশক ধরে চলা আলোচিত এ মামলার রায়ের মধ্য দিয়ে জালাল উদ্দিন ও খলিলুর রহমান হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলো। তবে রায়ে দণ্ডিত ও খালাসপ্রাপ্ত আসামিদের বিষয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ এবং রায়ের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ পাওয়া গেলে মামলার বিচারিক সিদ্ধান্তের বিস্তারিত আরও স্পষ্ট হবে।