
একনেকের অনুমোদন ও ৬৮ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দের তিন বছর পরও কাজ শুরু না হওয়ায় কুড়িগ্রামের উলিপুরে বাইপাস সড়ক নির্মাণের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে জনপদ। মঙ্গলবার (২৩ জুন) পৌর শহরের চৌরাস্তা মোড়ে অনুষ্ঠিত বিশাল মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে প্রায় তিন ঘণ্টা স্থবির হয়ে পড়ে পুরো উপজেলা। বন্ধ হয়ে যায় কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়কে সব ধরনের যান চলাচল।
উলিপুরের সর্বস্তরের জনগণ ও বাইপাস সড়ক বাস্তবায়ন কমিটির ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে হাজারো মানুষ অংশ নেন। তীব্র গরম উপেক্ষা করে আধা কিলোমিটারজুড়ে সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে তারা দ্রুত প্রকল্পের কাজ শুরুর দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ২০২৩ সালে একনেক সভায় উলিপুর শহরের যানজট নিরসনে ‘হেলিপ্যাড থেকে আমিন মোড়’ পর্যন্ত ৩ দশমিক ২ কিলোমিটার বাইপাস সড়ক নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন পায়। এ জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ৬৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা। কিন্তু দীর্ঘ তিন বছরেও প্রকল্পের কাজ শুরু হয়নি। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন উলিপুরবাসী।
বক্তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের আলটিমেটাম দিয়ে বলেন, দ্রুত সব জটিলতা নিরসন করে কাজ শুরু না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। প্রয়োজনে উলিপুরকে অচল করে সারাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করারও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
মানববন্ধনে অংশ নেয় উলিপুর বণিক সমিতি, দোকান কর্মচারী ইউনিয়ন, সম্মিলিত শিক্ষক পরিষদ, পল্লী চিকিৎসক অ্যাসোসিয়েশন, রিকশা ও অটোরিকশা সমিতি, ইমারত শ্রমিক ইউনিয়ন, মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন, হোটেল শ্রমিক সংগঠন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
উলিপুরের সাবেক মেয়র তারিক আবুল আলা চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হায়দার আলী মিয়া, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা নিজাম উদ্দিন, উপজেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট কামাল কবির লিটন, বণিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইকবাল হোসেন চাঁদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব আলম, শ্রমিক নেতা সিরাজুল ইসলাম সাজুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রকল্প অনুমোদনের পর সড়কের নির্ধারিত নকশার ভেতরে বহুতল ভবন নির্মাণ করে প্রকল্প বাস্তবায়নে জটিলতা সৃষ্টি করা হয়েছে। এসব অনিয়মের কারণেই জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া আটকে গিয়ে পুরো প্রকল্প থমকে রয়েছে।
তারা আরও বলেন, উলিপুর শহরের ভয়াবহ যানজটের কারণে প্রায়ই জরুরি সেবা ব্যাহত হচ্ছে। অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসকে দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হয়। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরাও প্রতিদিন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। দ্রুত বাইপাস সড়ক নির্মাণ করা হলে এ সংকট অনেকটাই দূর হবে।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সেটি সম্পন্ন হলেই বাইপাস সড়কের কাজ শুরু করা হবে।