
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষার্থীরা টেকসই উন্নয়ন ও উদ্ভাবনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। এফবিসিসিআই ইনোভেশন অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার (FBCCI-IRC) ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) বাংলাদেশ-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত গ্রিন স্টার্টআপ প্রতিযোগিতা ২০২৫ এ রুয়েটের দুটি দল—ই-রিভাইভ (E-Revive) ও সোলার স্নো (Solar Snow) অর্জন করেছে উজ্জ্বল সাফল্য।
২৭ আগস্ট (বুধবার) ঢাকা এফবিসিসিআই আইআরসি (FBCCI-IRC) কার্যালয়ে “শিল্প ও রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য সার্কুলার অর্থনীতি ও এসডিজি” শীর্ষক নীতিনির্ধারণী সংলাপ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। অনুষ্ঠানে বিজয়ী দলগুলোর প্রত্যেক কে ৫ লাখ টাকা করে মোট ৫০ লাখ টাকা সীড ফান্ড প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাননীয় উপদেষ্টা (শিল্প মন্ত্রণালয়) আদিলুর রহমান খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএনডিপি (UNDP) বাংলাদেশের অ্যাসিস্ট্যান্ট রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ সরদার এম আসাদুজ্জামান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআই ইনোভেশন অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন। কোকা-কোলা ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে এই আয়োজন সম্পন্ন হয়।
টিম ই-রিভাইভ এর সদস্যরা হলেন রুয়েটের তরুণ উদ্ভাবক যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ওয়ালিদ খান এবং একই বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইরফাত তাসনিম মৃত্তিকা ও কাফিনুর রহমান। তারা বৈশ্বিক ই-বর্জ্য সমস্যার টেকসই সমাধানে উদ্ভাবনী প্রযুক্তি উপস্থাপন করেছেন। তাদের প্রযুক্তি প্রচলিত প্রক্রিয়ার তুলনায় ৮৫–৯০% কম ক্ষতিকর গ্যাস নির্গমন করে, ১৭% কম শক্তি ব্যবহার করে এবং ৯০% পর্যন্ত মূল উপকরণ পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম। এতে ল্যান্ডফিলের ঝুঁকি কমবে এবং উৎপাদন সরবরাহ শৃঙ্খলে পুনঃপ্রবর্তনের মাধ্যমে মূল্যবান সম্পদের পুনঃব্যবহার নিশ্চিত হবে। ফলে নতুন কাঁচামালের উপর নির্ভরতা হ্রাস পেয়ে এক বৃত্তাকার অর্থনীতির সম্ভাবনা তৈরি হবে।
অন্যদিকে টিম সোলার স্নো কাজ করছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সৌরশক্তি নির্ভর শীতল সংরক্ষণাগার নিয়ে। এটি দেশের কৃষি সমস্যা সমাধানে বিশেষ করে প্রান্তিক কৃষকদের ফসল সংরক্ষণে বৈপ্লবিক সমাধান আনবে বলে ধারণা করছেন। সোলার স্নো প্রতিষ্ঠাতা হলেন রুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান আশিক ও ওয়ালিদ খান এবং একই বর্ষের ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সুমাইয়া আক্তার দিপা। বর্তমানে টিম সোলার স্নো এর সহ প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে কাজ করছেন রুয়েটের আরো পাঁচ তরুণ শিক্ষার্থী। তারা হলেন যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তৌফিক আহমেদ, দারুস সালাম লগ্ন, ফারদিন খান, আকরামুজ্জামান সিদ্দিকী ও দিলওয়ারা আক্তার দিপা।
তাদের অর্জন নিয়ে রুয়েট রিপোর্টার্স ইউনিটি কে ওয়ালিদ খান বলেন,“আজকের এই স্বীকৃতি আমাদের জন্য শুধু আনন্দের নয়, বরং এক বিশাল দায়িত্বও বয়ে এনেছে। আমরা বিশ্বাস করি প্রকৌশলী হিসেবে আমাদের আসল কাজ হলো সমাজের বাস্তব সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা এবং সেগুলোর টেকসই সমাধান খুঁজে বের করা। বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, কৃষক, তরুণ শিক্ষার্থী কিংবা সাধারণ মানুষ—তাদের সমস্যার মূল জায়গা গুলো কাজ করতে হবে। এসব জায়গাতে একজন প্রকৌশলীর চিন্তা, উদ্ভাবন ও প্রয়োগই বড় পরিবর্তন আনতে পারে। আমরা যদি গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে মনোযোগ হই, তবেস্থানীয় সমস্যা থেকে শুরু করে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ সব কিছুরই কার্যকর সমাধান বের করা সম্ভব।”
রুয়েট শিক্ষার্থীদের এ সাফল্য উদ্ভাবনী চিন্তা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান তৈরির সক্ষমতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেছেন, এ ধরনের উদ্যোগ আগামী প্রজন্মকে টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশবান্ধব উদ্ভাবনে অনুপ্রাণিত করবে।